সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তারা জানায়, সৌদি বিমানটি ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালানোর সময় স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সেটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী আল্লাহর সহায়তায় মারিব প্রদেশের আকাশসীমায় সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। বিমানটি সেখানে সৌদি সামরিক তৎপরতায় সহায়তা করছিল বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে সৌদি আরব ইয়েমেনে ৪৫০টি হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে হুথিরা বিমানটি ভূপাতিত করার একটি প্রায় চার মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে প্রথমে যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করার দৃশ্য দেখা যায়। পরে রাতে মাটিতে তীব্র আগুন ও ধোঁয়ার দৃশ্য এবং দিনের আলোয় পাথুরে মরুভূমিতে ছড়িয়ে থাকা পোড়া ও বিকৃত ধাতব ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষের মধ্যে সৌদি যুদ্ধবিমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিহ্ন থাকা একটি বড় উল্লম্ব অংশও দেখা গেছে।
ভিডিওতে হুথিদের সশস্ত্র সদস্যদের ধ্বংসাবশেষের আশপাশে অবস্থান করতে এবং পিকআপে করে মরুভূমিতে চলাচল করতে দেখা যায়।
এর মধ্যেই বুধবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ করেছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগে হুথিদের ছোড়া একটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে।
আল-মালিকি ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও মুসল্লিদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মক্কা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা। তারা সৌদি আরবের এই দাবিকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে অভিহিত করেছে।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান বৃহত্তর সংঘাতের মধ্যেই সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে এই নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। হুথিদের হামলা এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পাল্টা বিমান হামলার কারণে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
পূর্বকোণ/আদর
















