চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

চট্টগ্রাম বন্দর

পিসিটির জন্য চীন থেকে এলো ৪ অত্যাধুনিক ক্রেন

প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে চীন থেকে এসব ক্রেন কিনেছে আরএসজিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ জুন, ২০২৬ | ১০:১০ অপরাহ্ণ

দেশের প্রথম বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালিত পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) জন্য আনা চারটি অত্যাধুনিক কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন (কিউজিসি) নিয়ে বিশেষায়িত ডেক জাহাজ ‘এমভি ল্যান হাই হং ইউন’ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে।

 

 

আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের পিসিটি জেটিতে ভিড়ে জাহাজটি। নিরাপদে জেটিতে ভেড়াতে বন্দরের দুইজন অভিজ্ঞ পাইলট ও তিনটি শক্তিশালী টাগবোট নিয়োজিত ছিল। পিসিটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল’ (আরএসজিটি) প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে চীন থেকে এসব ক্রেন এনেছে।

 

 

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাসির উদ্দিন পূর্বকোণকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা ৬টায় কিউজিসি বহনকারী এমভি ল্যান হাই হং ইউন পতেঙ্গা জেটিতে সফলভাবে ভিড়ে।’

 

 

এর আগে ক্রেনগুলো আনলোডের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্ণফুলী নদীর পিসিটি সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ, কোস্টার, ট্যাংকার ও মাছ ধরার ট্রলারের চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ।

 

 

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যান্ট্রি ক্রেন কনটেইনার পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজ থেকে দ্রুত ও নিরাপদে পণ্য ওঠানামার সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি। নিজস্ব ক্রেনবিহীন জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাসের ক্ষেত্রে এসব ক্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

 

বন্দর ও আরএসজিটি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চীনের সানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রি থেকে চারটি কিউজিসি সংগ্রহের জন্য চুক্তি করে আরএসজিটি। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্মাণ শেষে ক্রেনগুলো বাংলাদেশে পৌঁছালো।

 

 

এই চারটি ক্রেন চালু হলে আরএসজিটি বাংলাদেশের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বর্তমান ২ লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস থেকে বেড়ে ৬ লাখ টিইইউএসে উন্নীত হবে। একই সঙ্গে জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং লজিস্টিক ব্যয়ও হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগে পিসিটির জন্য ১৪টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন সংগ্রহে ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছিল আরএসজিটি। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে পিসিটিতে ১ লাখ ৪৩ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। নতুন গ্যান্ট্রি ক্রেনগুলো চালু হলে জাহাজ ও কনটেইনার পরিচালনার সক্ষমতা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পিসিটি নির্মাণ করে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বন্দরের সঙ্গে ২২ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব পায় আরএসজিটি। চুক্তি অনুযায়ী, টার্মিনালটির আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট