চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানা এলাকায় এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর বাসায় চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া গলিত স্বর্ণালংকার, রুপার কয়েন, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. খোরশেদ (৩০) ও ইসমাইল হোসেন (৩৮)। তারা বর্তমানে খুলশী থানার আমবাগান নালাপাড়া ছিন্নমূল কলোনি এলাকায় বসবাস করতেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন গভীর রাতে পাঁচলাইশ থানাধনি হিলভিউ আবাসিক এলাকার ‘নাহার ভিলা’র তিনটি ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী একজন গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ব্যবসায়ী। তিনি তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ওই ভবনের তিনটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন।
এদিন ভোররাত ৪টার দিকে ব্যবসায়ীর সাড়ে চার বছর বয়সী কন্যাসন্তান জারিকা ইমানী বিনতে ইউসুফ বাসার ভেতর অপরিচিত ও সন্দেহভাজন একজনকে দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্যদের ঘুম ভেঙে গেলে চোর চক্রের বিষয়টি সামনে আসে। চোরেরা ফ্ল্যাটের ড্রয়িংরুমের জানালার রড ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, ডায়মন্ডের আংটি, রুপার কয়েন, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় গত ১০ জুন পাঁচলাইশ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা দায়েরের পর পাঁচলাইশ থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযানে নামেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৫ জুন রাত ১১টায় হাটহাজারী থানাধীন মীরেরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথম আসামি মো. খোরশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চুরি হওয়া দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
পরদিন ১৬ জুন সকাল সোয়া ৮টায় গ্রেপ্তার খোরশেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানাধীন কোনাগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের অপর সদস্য ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় পুলিশ। সেদিন রাতেই নগরীর কোতোয়ালী থানার একটি স্বর্ণের দোকান থেকে চোরাইকৃত ৪ ভরি ০৯ আনা গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পরে আসামিদের খুলশী থানাধনি আমবাগান ছিন্নমূল কলোনির বাসায় অভিযান চালিয়ে ৩ ভরি ১৫ আনা ওজনের ৪টি রুপার কয়েন, এক ভরি ১০ আনা ওজনের দুইটি রুপার চেন, তিন ভরি ১০ আনা ওজনের দুইটি রুপার নূপুর, ও নগদ ৮৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পাঁচলাইশ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই চুরির ঘটনার সাথে জড়িত চক্রের অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পূর্বকোণ/পিআর

















