হঠাৎ দেখে মনে হতে পারে কোনো বন্যা পরিস্থিতি। স্রোতসহ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছিল পানি। আর তাতে ডুবে যাচ্ছিল আশপাশের সড়ক।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে যারা নগরের চেরাগী পাহাড় এলাকা হয়ে চলাচল করেছেন তারা এই পরিস্থিতি অবলোকন করেছেন।
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মীরা অপটিক্যাল ফাইবারের কাজ করার সময় ওয়াসার পাইপলাইন ফুটো করে ফেলায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। কয়েকঘণ্টা ধরে এভাবে অনবরত বের হওয়ায় হাজার হাজার লিটার পানি অপচয় হয়।
পরে ওয়াসা ও বিটিসিএলের কর্মীরা একযোগে পাইপলাইনের লিকেজটি খুঁজে বের করে সংস্কারকাজ শুরু করেন। এতে আন্দরকিল্লা থেকে জামালখান এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আজ রাতভর কাজ করার পর কাল শুক্রবার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছে ওয়াসা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে চেরাগী মোড়ের হাইওয়ে সুইটস নামের মিষ্টির দোকানের সামনে বিটিসিএলের কর্মীরা অপটিক্যাল ফাইবারের কাজ করছিলেন। কাজ করার সময় সাড়ে পাঁচটার দিকে ভুলে ওয়াসার কালুরঘাট বুস্টার পাম্প স্টেশনের ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনটি ফুটো করে ফেলেন। এতে প্রচণ্ড চাপে পানি বের হতে থাকে। পরে খবর পেয়ে ওয়াসার প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর ফুটো হওয়ার জায়গাটি চিহ্নিত করে সংস্কারকাজ শুরু করেন তারা।
আন্দরকিল্লা এলাকার বাসিন্দা আনিসুজ্জামান দুলাল পাইপলাইনের ফুটো হয়ে পানি ছড়িয়ে পড়ার কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে দিয়ে লিখেছেন, ‘জলের শ্রাদ্ধ। বিটিসিএলের দায়সারা কাজের কারণে ওয়াসার পাইপলাইন ফাটল| ভেসে যাচ্ছে রাস্তা।’ পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় ওই এলাকায় পানি নিয়ে ভোগান্তির আশঙ্কা করেন তিনিসহ অনেকেই।
সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ওয়াসার সুপারভাইজার মোহাম্মদ হারুনের নেতৃত্বে সংস্কারকাজ চলছে। সড়কের এক পাশে বিশাল গর্ত করে ফেটে যাওয়া পাইপটির দুই পাশের মুখ বন্ধ করা হয়েছে। ৫-৬ জন শ্রমিক মাটি সরানোর কাজ করছিলেন। কাঁদাপানি-একাকার হয়ে যাওয়ায় ব্যস্ত সড়কটিতে যান চলাচল ব্যহত হচ্ছে।
পানির পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওয়াসার মড-৪ জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌমিত পাল। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার ভেতরে বিটিসিএলের কর্মীরা কাজ করার সময় পাইপলাইনটি ফুটো করে ফেলেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফুটোর জায়গাটি চিহ্নিত করে সংষ্কারকাজ শুরু করি। এই ঘটনায় বিটিসিএলকে চিঠি দেওয়া হবে। সংস্কারকাজের জন্য তাদের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।’
তবে পাইপলাইন ফুটো হলেও পানি সরবরাহ সেভাবে বিঘ্নিত হবে না বলে জানান সৌমিত পাল| তিনি বলেন, ‘সংস্কারের জন্য শুধু একটি সেকশনে পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। আন্দরকিল্লা থেকে জামালখান এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে শুক্রবার সকালের মধ্যেই পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিটিসিএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ অহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
পূর্বকোণ/সিজান
















