চট্টগ্রাম রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

বোয়ালখালীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না টানা ১৮ ঘণ্টা! চরম দুর্ভোগে মানুষ

বোয়ালখালীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না টানা ১৮ ঘণ্টা! চরম দুর্ভোগে মানুষ

বোয়ালখালী সংবাদদাতা

২৩ আগস্ট, ২০২৬ | ১:২৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টায় হঠাৎ ফ্যানের ঘোরা থেমে যায়। রাতটা বিছানায় ছটফট করে কোনো রকমে কাটিয়েছেন মো. হোসেন আলী। ভোরের আলো ফুটতেই পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ে শরীর শীতল করেন। এরপরও বিদ্যুতের দেখা নেই।

পূর্ব গোমদণ্ডীর বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, ‘কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার দিন গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যা। কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ এসেছিল, আবার চলে গেল। এরপর আর তার দেখা মেলেনি। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর এলেও ৩০ মিনিটেরও কম সময় ছিল বিদ্যুৎ। এভাবে পুরো উপজেলায় দুই ঘণ্টা পর পর আধ ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ এসে আবার চলে যাচ্ছে। ফলে অন্তহীন দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।’

গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ হয়ে যায় মোবাইল যোগাযোগ এবং ইন্টারনেট সেবা। স্থবিরতা নেমে আসে ব্যবসা-বাণিজ্যে। চলমান এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অসহনীয় গরমে পরীক্ষা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

 

কধুরখীল ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. মোকতেয়ার উদ্দিন বলেন, ‘ঘরে এক মাস বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে। সে গরমে সারা শরীর ঘেমে-নেয়ে একাকার হয়ে গেছে। একবার ঘাম মুছিয়ে দিই, আর তারপর বিদ্যুৎ কবে আসবে সেই অপেক্ষায় হাতপাখা দিয়ে সারারাত জেগে বাতাস করেছি। সকালে দোকান খুলতে পারিনি।’

‘জানতে পেরেছি বিদ্যুতের একটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। তারা গ্রাহকদের ওপর জুলুম করে, অথচ বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পূর্বপ্রস্তুতি রাখে না। একটি নষ্ট হলে আরেকটি বসানো হবে। বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে।’

শাকপুরার বাসিন্দা শিমুল দে বলেন, ‘বিদ্যুৎ ছাড়া বর্তমানে চলা দায়। কর্তৃপক্ষ কি এটা জানে না? মূলত দায়সারা লোকদের কারণে আজ এই দশা হয়েছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) নিয়ন্ত্রণাধীন টিকে সাবস্টেশনের ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় বোয়ালখালীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। পিজিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রান্সফরমারটি পুনরায় চালু করতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে।

এই সাবস্টেশন থেকে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বোয়ালখালীতে দুটি ৩৩ কেভি ফিডারের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করত। বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র লোডশেডিং।

পিজিসিবি সূত্র জানায়, টিকে কেমিক্যালের বকেয়া বিল এবং বিদ্যুৎ ব্যবহার কম হওয়ার কারণে গ্রিডের দুটি ফিডার (বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন) অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি।

সাবস্টেশনে ত্রুটির খবর পেয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, পিজিসিবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জোনাল ম্যানেজার শ ম মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনের কাজ তদারকি করা হচ্ছে। বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট