কক্সবাজারের পানের ছড়ায় সরকারি সংরক্ষিত বনভূমির অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে ভূমিদস্যুদের সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জ এলাকায় এ রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমসহ তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আহত বনকর্মীরা হলেন—পানেরছড়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) শরিফুল আলম, ফরেস্ট গার্ড হুমায়ুন কবির, বাগান মালি সাইদুল ইসলাম, মো. সাজিদ এবং ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্য মিজানুর রহমান।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সকালে পানেরছড়া বিট এলাকায় যায় বন বিভাগের একটি দল। অভিযান চলাকালে স্থানীয় জবরদখলকারী ও ভূমিদস্যু চক্র দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বনকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী রক্তাত্ব হন এবং অভিযানে ব্যবহৃত বেশ কিছু সরকারি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহতদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হতে পারে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে হামলায় জড়িত কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে পানেরছড়া সমিতিপাড়া ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার নাজির, সাহাবউদ্দিন, জসিম ও আবদুল্লাহর নাম উঠে এসেছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জন হামলায় অংশ নেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সরকারি দায়িত্ব পালন এবং সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করার সময় আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। এতে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক যারা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সরকারি বনভূমি রক্ষা ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বনকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জে প্রভাবশালী চক্র সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করে পানের বরজ, বসতবাড়ি ও নানা অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে। লোকবল সংকটের কারণে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলে দখলদার চক্র প্রায়ই সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে বনকর্মীদের ওপর বাধা, হুমকি ও হামলা চালিয়ে আসছে। বনভূমি ও বনকর্মীদের সুরক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর স্থায়ী সহযোগিতা দাবি করেছেন তারা।
পূর্বকোণ/পিআর
















