বিশ্বের অগণিত সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলো না ব্রাজিল। প্রথমার্ধে ইসমাইল সাইবারির গোলে মরক্কো প্রভাব বিস্তার করছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের এক অসাধারণ গোলে সমতা ফেরানোতে ব্রাজিল ১-১ গোলে খেলা শেষ করে। কোচ কার্লো আনচেলত্তির মতে স্মায়ুর চাপে ভুগছিল তার দল। তবে অসাধারণ ফুটবল খেলেছে মরক্কো। ‘সি’গ্রুপে স্কটল্যান্ড ১-০ গোলে হাইতিকে আর ‘ডি’গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া তুরস্ককে ২-০ গোলে পরাজিত করে পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করেছে। এর আগে কাতার-সুইজারল্যান্ডের খেলা ১-১ গোলে অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়েছে।
আজকে সকাল ৮টায় ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হবে সুইডেন ও তিউনিসিয়া। দলের অন্য দুটি দল হল নেদারল্যান্ডস ও জাপান। সুইডেনের আক্রমণভাগ খুবই শক্তিশালী ইয়োকেরেস-ইসাক জুটি যে কোন রক্ষণভাগকে ছারখার করে দিতে পারে। শারীরিক শক্তি গতি আর ফিনিশিং ছাড়াও আধুনিক স্ট্রাইকারের সব বৈশিষ্ট্য রয়েছে তাদের-সেট পিসেও কার্যকর। সুইডেনের রক্ষণভাগ যথেষ্ট দুর্বল। তবে তাদের লক্ষ্য শেষ আট। বিশ্বকাপ মঞ্চে এটা তিউনিসিয়ার সপ্তম উপস্থিতি, যদিও এর আগে প্রতিবারই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। দলীয় শক্তিমত্তায় তাদের সবচাইতে বড় পাওনা হলো বাছাইপর্বে একটিও গোল না খাওয়া। তবে তাদের মাঝ মাঠে হানিবাল মেজবরি তিউনিসিয়ার আক্রমণভাগে সৃষ্টিশীলতার সবচেয়ে বড় উৎস। তাই সুইডেনের বিপক্ষে অন্তত: ১টি পয়েন্ট পাওয়া তাদের আপতত মূল লক্ষ্য।
স্পেন ও বেলজিয়াম আজকে প্রথমবারের মত মাঠে নামছে। স্পেন রাত ১০টায় কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর রাত ১টায় বেলজিয়াম মিসরের বিরুদ্ধে। স্পেন আর বেলজিয়াম দুটোই বিশ্বকাপে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। তাই এই দু’দলের জন্য প্রত্যাশার চাপও বেশি।
স্পেন একসময় সবার জন্য হয়ে উঠেছিল তিকিতাকার দল, সেটা তাদের ছোট ছোট পাসে খেলার জন্য। কিন্তু বর্তমান স্পেন সেই তিকিতাকার মায়া কাটিয়ে গতিময় ফুটবলের অন্যতম ধারক। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে দলটিকে ৪-২-৩-১ পদ্ধতিতে খেলাতে চান। কেননা তার হাতে রয়েছে বিশ্বের সেরা দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রদ্রি ও জুবিমেন্দি। এছাড়া মিকেল মেরিনো, গাভি, ফ্যাবিয়ানরা হলেন মাঝ মাঠের কারিগর। আক্রমণে সবার দৃষ্টি থাকবে সেই বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামালের উপর। তাই ‘এইচ’ গ্রুপের দল স্পেন এবার নান্দনিক ফুটবল আর বল পজিশনের মোহজালে সবাইকে মাতিয়ে দ্বিতীয়বারের মত জয় করতে চায় বিশ্বকাপ। প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে এই প্রথমবার বিশ্বকাপে। যদিও দলটি ভারসাম্যপূর্ণ, তবে অনভিজ্ঞতাই দলের সবচাইতে বড় দুর্বলতা। তাই গ্রুপের দুই শক্তিশালী স্পেন ও উরুগুয়ের সাথে ড্র করতে পারলে সেটা হবে ঐতিহাসিক অর্জন।
‘জি’ গ্রুপে বেলজিয়াম আজকে মিশরের মুখোমুখি হবে রাত ১টায়। ১৯৩০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত বেলজিয়াম একবার মাত্র কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। যদিও গ্রুপ পর্বের ড্র বেলজিয়ামের জন্য সহজ হয়েছে। কিন্তু সংঘবদ্ধ ফুটবল উপহার দেওয়া বেলজিয়ামকে আমরা দেখতে পাই না। গোলে নির্ভরতার প্রতীক থিবো কোর্তায়া, মাঝ মাঠে কেভিন ডি ব্রুইনা আর রোমেলু লুকাকু ছাড়াও আক্রমণে জেরেমি ডোকু সবার নজর কাড়বেন। অন্যদিকে মিশর মানেই মোহাম্মদ সালাহ। রক্ষণ মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগ বেশ ভারসাম্যপূর্ণ এবং অভিজ্ঞ। তবে নির্দিষ্ট কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় এর উপর নির্ভরশীলতা তাদের এগিয়ে যাওয়াতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। কাউন্টার অ্যাটাকে রক্ষণভাগ নড়বড়ে, তাই আপাতত কোয়ার্টার ফাইনাল তাদের লক্ষ্য। কোচ দেশটির সাবেক স্ট্রাইকার হোসাম হাসান আক্রমণাত্মক ফুটবলে বিশ্বাসী, দলকে লড়াকু মনোভাবে গড়ে তুলেছেন। ম্যাচের ফলাফল বিশেষজ্ঞদের মতে বেলজিয়াম ২, মিশর ১।
পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ

















