চট্টগ্রাম সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

ফটিকছড়ির টার্ফে ঘুম নেই বিশ্বকাপের রাতে

ফটিকছড়ির টার্ফে ঘুম নেই বিশ্বকাপের রাতে

নাজমুল আলম, ভূজপুর, ফটিকছড়ি

১৫ জুন, ২০২৬ | ৮:০০ পূর্বাহ্ণ

রাত একটা ছুঁই ছুঁই, ফটিকছড়ির বিবিরহাট এলাকায় ঘুমিয়ে পড়েছে চারপাশ| কিন্তু ঘুম নেই সবুজ কৃত্রিম ঘাসে মোড়া মিনি ফুটবল টার্ফে। ফ্লাডলাইটের আলোয় ঝলমল করছে মাঠ, বাতাসে ভাসছে উত্তেজিত চিৎকার আর বলের শব্দ। কারও গায়ে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি, কারও গায়ে ব্রাজিলের হলুদ। শুধু মাঠে নয়, মাঠের চারপাশেও জমে উঠেছে দর্শকরা গলা ফাটিয়ে সাপোর্ট দিচ্ছেন পছন্দের দলকে, কেউ চায়ের কাপ হাতে উপভোগ করছেন এই মিনি বিশ্বকাপের আমেজ। বিশ্বকাপের উত্তাপ শুধু টেলিভিশনের পর্দায় নয়, নেমে এসেছে পুরো দেশে, ফটিকছড়ির মাটিতেও।

 

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা ও এর আশপাশ এলাকায় গড়ে ওঠা পাঁচ থেকে ছয়টি মিনি ফুটবল টার্ফে যেন জোয়ার এসেছে। যেখানে অন্য সময় দিনে তিন-চারটি বুকিং হতো, সেখানে এখন হচ্ছে আট থেকে দশটি। দিনের বেলায় ঘণ্টাপ্রতি ভাড়া ৬০০-৭০০ টাকা, রাতে তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১,২০০-১,৩০০ টাকায়।

 

বিবিরহাটে ভিক্টোরি স্পোর্টস জোনের ম্যানেজার সাবিত বলেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে আমাদের ব্যস্ততা অনেক বেড়েছে| অন্য সময় তিন-চারটা বুকিং থাকলেও এখন আট থেকে দশটি বুকিং হচ্ছে নিয়মিত। পছন্দের দলের খেলার আগে বা খেলা দেখার অপেক্ষার মুহূর্তে মানুষ টার্ফে চলে আসছে। শুধু কিশোর বা তরুণ নয়, এই টার্ফে পা রাখছেন সমাজের সব স্তরের মানুষ। ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, চিকিৎসক, ছাত্র কেউই বাদ নেই। ১১ জুন রাতে বিবিরহাট টার্ফে দেখা মেলে ‘ফটিকছড়ি লিজেন্ড’ নামের একটি স্থানীয় সংগঠনের সদস্যদের ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ভাগ হয়ে মাঠে নেমেছিলেন।

 

কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ফটিকছড়ি লিজেন্ডের সদস্য মাসুদ বলেন, ব্যাংকের কাজ শেষ করে এসে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ভাগ হয়ে খেললাম। খেলাটা ৪-৪ গোলে ড্র হয়েছে। কিন্তু মজাটা অনেক বেশি পেয়েছি। বিশ্বকাপের আমেজে বন্ধুদের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে উঠেছি। খেলোয়াড়রা নিজেদের পছন্দের দলের জার্সি পরে মাঠে নামছেন। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, পর্তুগালের জার্সিতে রঙিন হয়ে উঠছে ফটিকছড়ির টার্ফ। বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে হাজার মাইল দূরে হলেও, এখানে উত্তেজনার কমতি নেই। টার্ফের কারনে বাড়ছে চায়ের বিক্রিও। টার্ফের পাশের কুলিং কর্ণারের মালিক ফাহিম জানান, যেসব ছেলেরা আগে সারাক্ষণ মোবাইলে ফ্রি ফায়ার-পাবজিতে ডুবে থাকত, তারা এখন টার্ফে আসছে। এতে ক্রেতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে| আগে রাত ১০টায় দোকান বন্ধ করে দিতাম। এখন রাত গভীর হলেও মানুষ আসছে। টার্ফে এতজন মানুষ আসছে যে আমার বেচাবিক্রিও বেড়ে গেছে।

 

পূর্বকোণ/পারভেজ

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট