আজ আমেরিকার বোস্টন স্টেডিয়ামে হাইতি আর স্কটল্যান্ড পরস্পরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়। ১৯৭৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া হাইতি ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপ খেলা দ্বিতীয় দল। দলটির সব চাইতে বড় দুর্বলতা হলো বড় টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতার অভাব। তবে বড়দলের বিপক্ষে নিজেদের অর্ধে সবাই নেমে প্রতিপক্ষে আক্রমণ রুখে দিতে পারে। সুযোগমত দ্রুত প্রতি আক্রমণে প্রতিপক্ষকে বিচলিত করতে পারে।
গোলরক্ষক ও অধিনায়ক জনি প্লসিদ অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং এ পর্যন্ত হাইতির হয়ে ৭৯টি ম্যাচ খেলেছেন। অন্যদিকে সুযোগ সন্ধানী স্ট্রাইকার ডাকেনস নাজোঁর ওপরও সবার চোখ থাকবে। প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ডের আগে কখনও গ্রুপপর্ব পেরোতে পারেনি। তাই গ্রুপ পর্ব পাড়ি দেওয়ায়এবার তাদের প্রধান লক্ষ্য। তবে স্কটল্যান্ডের প্রধান শক্তি হলো তাদের রক্ষণভাগ। তবে প্রতি আক্রমণে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে লম্বা পাসে উপরে উঠতে পারে। সবার নজর থাকবে মিডফিল্ডার স্কট ম্যাকটমিনের উপর, যাঁর রয়েছে গোল করার দুর্দান্ত দক্ষতা। তাই এই ম্যাচে সবাই স্কটল্যান্ডকে ২-১ গোলে এগিয়ে রাখছে।
সকাল ১০টায় অস্ট্রেলিয়া ‘ডি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে তুরস্কের মুখোমুখি হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার মূলশক্তি তাদের রক্ষণভাগ। হ্যারি সাউটার, ক্যামেরন বার্গেস সেন্টারব্যাক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষ। তাদের বেশ কজন খেলোয়াড় এর আমেরিকার মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে মাঝমাঠ দখলে রাখার এবং মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ রচনায় সক্ষমতার অভাব রয়েছে। ৫-৪-১ পদ্ধতিতে রক্ষণভাগ নিরাপদ হলেও নির্ভরযোগ্য গোলদাতার অভাব রয়েছে, যদিও সবার দৃষ্টি থাকবে নেস্টরি ইরানকুন্ডার ওপরে। যিনি গতি দম আর দূর থেকে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার জন্য অস্ট্রেলিয়ার তুরুপের তাস।
প্রতিপক্ষ তুরস্ক কোচ ভিনচেঞ্জো মন্তেলার অধীনে অত্যন্ত সংঘটিত একটি দল আর তাদের খেলায় রয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের ছোঁয়া। দলে বেশ কজন খেলোয়াড় রয়েছেন যারা নিজেদের নৈপূণ্যে বিশ্বের বড়দলগুলিতে জায়গা করে নিয়েছেন। আক্রমণভাগে চালহানোগলু-আর্দা গুলার, কেনান ইলাদিজ ত্রয়ী ইউরোপের অন্যতম সৃষ্টিশীল আক্রমণভাগগুলোর একটি আর গোলরক্ষক আলতাই রায়িন্দিরের মতা অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। ৪-২-৩-১ ফরমেশনে তুরস্কের ফুটবলে আছে আধুনিক ছন্দ।তাই গ্রুপ ‘ডি’ তে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি দ্বিতীয় রাউন্ডের দল হিসেবে তুরস্ককে ধরা হচ্ছে। তাই আমরাও তুরস্ককে ২-১ গোলে এগিয়ে রাখবে।
আজ রাত ১১টায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘ই’ গ্রুপের জার্মানি বনাম কুরাসাও ম্যাচটি। জার্মানির শেষ বিশ্বকাপ হয় ২০১৪ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। তবে এবারের বিশ্বকাপে জার্মানির সেই দলের কেউই নেই। তাই ভরসা রাখতে হচ্ছে নবাগতদের ওপর। তবে দলের নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার অবসর ভেঙে দলে ফেরায় দলের মনোবলবৃদ্ধি পেয়েছে। মাঝমাঠে জশুয়া কিমিখ আর আক্রমণে জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান ভার্টজের সাথে কাই হ্যার্ভাটজ, নিক ভল্টেমোডে গোল এনে দেনে বলে কোচ ইউলিয়ান নাগলসম্যান এর আশা। দলীয় পারফরম্যান্স আর স্মায়ুর চাপ চামলানোর ক্ষমতা তাদের বড় শক্তি।
অন্যদিকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচাইতে ছোটদেশ হিসেবেই মাঠে নামছে ক্যারিবীয় দ্বীপের দেশ কুরাসাও।কোড ডিক অ্যাডভোকাট ডাচ ফুটবলের শৃঙ্খলা ও প্রযুক্তির দক্ষতায় গড়ে ওঠা এই দল কৌশলগতভাবে বেশ সংঘটিত। তবে বড় ম্যাচের মানসিকতার ভাব দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। দলনেতা তাহিথ চং এর গতি ড্রিবলিং বিপক্ষ দলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই জার্মান দলের বিপক্ষে গোল ব্যবধান সীমিত রাখতে পারলে সেটিই হবে ভবিষ্যতের পাথেয়।
রাত ২টায় অনুষ্ঠিত হবে ‘এফ’ গ্রুপের নেদারল্যান্ডস ও জাপানের ম্যাচ। ডাচরা নিজেদের দিনে যে কোন দলকে কাঁপিয়ে দিতে পারে। ডাচদের শক্তি হলো মিডফিল্ড ও রক্ষণভাগের গভীরতা। একঝাঁক তারকা ফুটবলার রয়েছেন ডাচ দলে যারা এ মুহূর্তে বিভিন্ন ফুটবল দলের হয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে সবার নজর থাকবে দলের সহ অধিনায়ক ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, যার ওপর দায়িত্ব রয়েছে মাঝমাঠ থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ করার। প্রতিপক্ষ জাপান স্বাগতিক দলগুলি ছাড়া প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে। আক্রমণাত্মক ফুটবলের সাথে গতির সমাবেশ জাপানের মূলঅস্ত্র। ফুটবলের বিভিন্ন ফরমেশনে তারা অভ্যস্ত। তাছাড়া দলের খেলোয়াড়দের ইউরোপীয় ফুটবলের পরিচিতি রয়েছে। তাই জাপানের আপতত লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনাল। তাই অনেকে জাপানকে ২-১ গোলে এগিয়ে রাখছেন।
পূর্বকোণ/নুসরাত


















