চট্টগ্রামে সম্পত্তির লোভে এক নারীকে দিয়ে কৌশলে ডেকে নিয়ে বাবাকে অপহরণ এবং শ্বাসরোধে হত্যার দুই বছর পর দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- নিহত মীর মজিবুর রহমান খানের ছেলে বেলাল হোসেন (৩৫) ও তার বোনের স্বামী সহযোগী আব্দুল জলিল।
শনিবার (১৩ জুন) কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক এলাকা থেকে বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বেলালের দেয়া তথ্যমেত পরদিন জোরারগঞ্জের ঘেড়ামারা এলাকা থেকে আরেক আসামি আব্দুল জলিলকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরদিন আদালতে ১৪ জুন ১৬৪ ধারায় হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট প্রধান পুলিশ সুপার এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত মীর মজিবুর রহমান খান (৬০) পেশায় বাবুর্চি ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব চাম্বল এলাকায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিনটি বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর মজিবুর তার দ্বিতীয় স্ত্রীর নানার বাড়ি ফটিকছড়িতে থাকতেন। বেলাল হোসেন তার প্রথম স্ত্রীর প্রথম সন্তান। বেলাল সিএনজি অটোরিকশা চালাতো এবং নগরীর খুলশী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। মজিবুর জমি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। সেজন্য বেলাল তাকে জমি বিক্রি করতে না দিতে হত্যার পরিকল্পনা করেন।’
‘পরিকল্পনা অনুযায়ী বেলাল তার পরিচিত এক নারীকে দিয়ে তার বাবা মজিবুর রহমানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতে বলেন। ওই নারী ফোনে কথা বলতে বলতে মজিবুরকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। ২০২৪ সালের জুন মাসে মজিবুর রহমান ফটিকছড়ি থেকে চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লা এলাকায় মেয়ে সালমা খানমের বাসায় বেড়াতে আসেন। ওই বছরের ৭ জুন ওই নারীর ডাকে নগরীর বাকলিয়া এলাকার একটি বাসায় যান মজিবুর রহমান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন বেলালের আত্মীয় আব্দুল জলিল। শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানোর পর মজিবুর রহমান অচেতন হয়ে পড়েন। পরে বেলাল ও জলিল তাকে নিয়ে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে সন্ধ্যার পর নগরের হালিশহর এলাকার সিডিএ আউটার রিং রোড সংলগ্ন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে গামছা প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ পাশের ঝোপে ফেলে পালিয়ে যায় তারা।’
‘মেয়ে সালমা খানমের বাসা থেকে বের হয়ে তিনি আর না ফেরায় মেয়ে প্রথমে নিখোঁজ ডায়েরি এবং পরে আদালতে অপহরণ মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।’
এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরেক ছেলে আনোয়ারের প্রেপ্তারের বিষয়ে পিবিআই পুলিশ সুপার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তদন্তে আনোয়ারের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। ১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং তদন্তে বেলাল ও তার ভাই জলিলের নামই মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেমিকার মাধ্যমে ভিকটিমকে একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার পর লাশ ফেলে দেওয়া হয়। আসামিদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দুই বছর আগে উদ্ধার হওয়া একটি অজ্ঞাতনামা লাশের আলামতের মিল পাওয়া গেছে। প্রেমিকার পরিচয় শনাক্ত করা হলেও তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, বেলালের স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে জানা যায়, হত্যার দুইদিন পর ২০২৪ সালের ৯ জুন হালিশহর থানা পুলিশ অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছিল। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় হত্যা মামলা দায়েরের পর ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হয়। পরে তদন্তে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক তদন্তে ওই অজ্ঞাতনামা লাশটি মজিবুর রহমানের বলে নিশ্চিত হয় পিবিআই।
পূর্বকোণ/পিআর

















