আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে জামায়াতের লংমার্চ কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, ভারত ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে দেশকে অশান্ত করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে জামায়াত। তাদের একের পর এক লংমার্চ কর্মসূচি সেই গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। স্বার্থের প্রয়োজনে দলটি যেকোনো পক্ষের সঙ্গে হাত মেলাতে দ্বিধা করে না এবং আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। জামায়াতের বর্তমান আমিরের বক্তব্য ও পলাতক আওয়ামী লীগের ভাষা একই সূত্রে গাঁথা বলে দাবি করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট জাতীয় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের সংকট সমাধানে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোরও গঠনমূলক ভূমিকা রাখা উচিত। কিন্তু তা না করে জাতীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের পর রংপুরের দিকে লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিচ্ছে জামায়াত। লংমার্চ করে কখনোই গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো জাতীয় সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকার যখন দৃঢ়ভাবে ভারতবিরোধী ও আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান নিয়েছে, তখন জামায়াতের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বাঁধার অপচেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। দেশের জনগণকে এ বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্রনীতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো বিদেশি শক্তির চাপ বা প্রভাবে নয়; বরং জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন থেকে পারস্পরিক সম্মান এবং সমতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পলাতক শেখ হাসিনা এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের ভারত থেকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে বিবেচনা করা হবে না। এই শর্ত পূরণ হলেই কেবল ওই সফর নিয়ে ভাবা সম্ভব।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে রাষ্ট্রকে একটি কাঠামোগত সংস্কারের মধ্য দিয়ে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। এই ক্রান্তিলগ্নে বিরোধী দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ কাম্য। ছোটখাটো বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা না করে বড় করে তোলার কারণে দেশীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও সরকারের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
এ সময় ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এম শাহজাহান আলী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এস এম সমীনুজ্জামান সমীন এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বকোণ/রানা


















