সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র এই দায়িত্বে বড় ধরনের ব্যর্থতার মুখে পড়ে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে তথ্য থাকলেও, তা সময়মতো বিশ্লেষণ করে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। বিবিসির নিরাপত্তা প্রতিবেদক ফ্র্যাঙ্ক গার্ডনারের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই হামলা আমেরিকার পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিকে গত ২৫ বছর ধরে প্রভাবিত করে আসছে।
হামলার পেছনের ব্যর্থতা
আল-কায়েদার আত্মঘাতী হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ মারা যান। সিআইএ আগে থেকেই ওসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদা নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানত, কিন্তু সিআইএ ও এফবিআই একে অপরের সঙ্গে তথ্য সঠিকভাবে ভাগ করেনি। পরে প্রকাশিত ৯/১১ কমিশন রিপোর্টে এই ব্যর্থতাকে “কল্পনাশক্তি, নীতি ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা” বলা হয়।
এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হয় ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টার, যুক্তরাজ্যে এমআই৫, পুলিশ ও এফবিআই একসঙ্গে কাজ করা শুরু করে।
ইরাক যুদ্ধ ও নতুন ভুল
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের আগে ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করা হয়, সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে। পরে এটি ভুল প্রমাণিত হয়। এই ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের এমআই৬ তাদের তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি বদলে ফেলে।
এছাড়া ২০০৫ সালে লন্ডনে ৭/৭ বোমা হামলা এবং ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টার হামলা প্রতিরোধ করতে না পারাও এমআই৫-এর বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
মানবাধিকার লঙ্ঘন
সন্ত্রাস দমনের নামে গুয়ান্তানামো বে-তে বিনা বিচারে বন্দি রাখা এবং নির্যাতনের ঘটনা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। যুক্তরাজ্যও একটি ঘটনায় ২০১৮ সালে প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়।
নতুন হুমকি: রাশিয়া ও চীন
সন্ত্রাস দমনে ব্যস্ত থাকার সময় পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়া ও চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ঠিকভাবে বুঝতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের শক্তি এখন শুধু সামরিক খাতে নয়, বরং প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়েছে—যা বোঝা আরও কঠিন।
২৫ বছর পরও একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—তথ্য সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়, তা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে কাজে লাগানোই আসল চ্যালেঞ্জ। ইউক্রেন যুদ্ধ ও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা প্রমাণ করে, এই সমস্যা কেবল পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
পূর্বকোণ/আদর

















