চট্টগ্রাম রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

হ্যারি-মেগানের ওপর গণমাধ্যমের চাপ: ডায়ানার পরিণতি স্মরণ করালেন ভাই স্পেনসার

হ্যারি-মেগানের ওপর গণমাধ্যমের চাপ: ডায়ানার পরিণতি স্মরণ করালেন ভাই স্পেনসার

অনলাইন ডেস্ক

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলকে নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণা তাদের জীবনে “ক্যান্সারের মতো” ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার ভাই আর্ল স্পেনসার। তাঁর আশঙ্কা, এই চাপের পরিণতি যেন ডায়ানার মতো না হয়।

আলথর্প এস্টেটে বিবিসির সাংবাদিক লরা কুয়েনসবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পেনসার বলেন, ডায়ানার ঘটনা থেকে মানুষের শিক্ষা নেওয়া উচিত। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ডায়ানা বেঁচে থাকলে হ্যারি ও মেগানের ওপর এই তীব্র নজরদারির সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পেতেন কি না।

জবাবে স্পেনসার বলেন, ডায়ানা কিংবা হ্যারি-মেগানকে নিয়ে ট্যাবলয়েডে যেসব প্রতিবেদন ছাপা হয়, তা কতটা অপ্রীতিকর হতে পারে, সেটা সবারই জানা। তিনি স্পষ্ট করেন, হ্যারি-মেগানের পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন না। তবে যে কেউ প্রতিদিন গণমাধ্যমের আক্রমণের শিকার হলে তার জীবনে এর প্রভাব ক্যান্সারের মতোই ধ্বংসাত্মক হতে পারে।

বোনের কথা স্মরণ করে স্পেনসার জানান, তিনি ডায়ানার “হতাশার অশ্রু” নিজের চোখে দেখেছেন। ডায়ানা সমালোচনার প্রতি খুবই সংবেদনশীল ছিলেন এবং গণমাধ্যমের আক্রমণ তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিত। হ্যারি ও মেগানের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখা তাঁর কাছে দুঃখজনক।

ডায়ানার শেষ দিনগুলো:

১৯৯৭ সালের ৩১ অগস্ট প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ডায়ানা ছিলেন গণমাধ্যমের অন্যতম আলোচিত মুখ। প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে দাম্পত্য দূরত্ব, দোদি আল ফায়েদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং স্বাধীন জীবনযাপন নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে তাঁকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। প্রেমিকের সঙ্গে তিনি কখন কোথায় যান, তা জানতে পাপারাজ্জিরা সারাক্ষণ তাঁকে অনুসরণ করত। সেই ক্যামেরার নজর এড়াতে গিয়েই প্যারিসের সুড়ঙ্গে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল, এমন তত্ত্ব তখন জোরালো হয়েছিল।

ডায়ানার শেষকৃত্যে স্পেনসার শোকবাণীতে অভিযোগ করেছিলেন, গণমাধ্যম তাঁর বোনকে হেয় করার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল। তিনি বলেছিলেন, ডায়ানার “প্রকৃত ভালো স্বভাব” দেখে সংবাদপত্রগুলো নিজেদের অবস্থান নিয়ে হুমকি বোধ করত।

হ্যারি-মেগানের অভিযোগ:

হ্যারি ও মেগানও দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সমালোচনা করে আসছেন। ২০২১ সালে অপরাহ উইনফ্রেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হ্যারি ট্যাবলয়েডগুলোকে “বিষাক্ত পরিবেশ” তৈরির জন্য দায়ী করেন। ২০২২ সালের নেটফ্লিক্স সিরিজে মেগান বলেছিলেন, তিনি যতই ভালো করার চেষ্টা করুন, গণমাধ্যম তাঁকে ধ্বংস করার পথ খুঁজে নেয়।

যুক্তরাজ্যে ফেরা:

রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বাধীনভাবে জীবন শুরুর ছয় বছর পর হ্যারি এ বছর সেপ্টেম্বরে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরেছেন। সন্তানদের তিনি সেখানকার স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন, অর্থাৎ এবার পরিবারের কাছাকাছি থাকতে চান তাঁরা। প্রিন্স চার্লস ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ায় অসুস্থ বাবার পাশে থাকার ইচ্ছাও এর একটি কারণ।

হ্যারি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপরিবারের সদস্য নন এবং পারিবারিক সম্পত্তিতেও তাঁর অধিকার নেই। নিজের থাকা-খাওয়া ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা তাঁকে নিজেকেই করতে হচ্ছে। তারপরও ব্রিটিশ গণমাধ্যমে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে উঁকিঝুঁকি ও ট্রোল থামেনি। ভাগ্নের এই পরিস্থিতি নিয়ে তাই গভীর উদ্বেগে আছেন আর্ল স্পেনসার।

পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট