কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ৫৩ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাতারবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া চালিয়াতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন। পুলিশের দাবি, এই মিছিল রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করা, নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি এবং রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অংশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল সুলতান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মহেশখালীতে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে এ ধরনের কার্যক্রম চালাবে, তাদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে এই মামলার পর থেকেই স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। আসামি হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের অনেকের দাবি—তারা আওয়ামী লীগ বা এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন।
এজাহারের ২ নম্বর আসামি মঈন উদ্দিনের সাংগঠনিক পদের সঙ্গে তার ঠিকানায় গরমিল পাওয়া গেছে। এজাহারে তাকে ‘কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তার পিতা হিসেবে গিয়াস উদ্দিন এবং ঠিকানা কালারমারছড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকায় এই পরিচয়ে কোনো রাজনৈতিক নেতা নেই। পিতার নামের সঙ্গে মিল থাকা মঈন উদ্দিন পেশায় একজন শিক্ষার্থী। তার দাবি, তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এবং মিছিল চলাকালীন সময়ে মাকে নিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।
এছাড়া এজাহারের ৫ নম্বর আসামি সজীবের দাবি, তিনি ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন; বরং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে সক্রিয় ছিলেন। এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে ৭ ও ১৬ নম্বর ক্রমিকে শাহ আনোয়ার ছিদ্দিক নামের একই ব্যক্তির নাম দুবার উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি, এই মামলায় মাতারবাড়ীর অনেক প্রবাসীর নামও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

















