চট্টগ্রাম রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মন্তব্য প্রতিবেদন

সৌদি-হুথি সংঘাত : ফাঁদ, নাকি নতুন মধ্যপ্রাচ্য সমীকরণ?

ডা. ম. রমিজউদ্দিন চৌধুরী, সম্পাদক

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে যুদ্ধ কখনো শুধু যুদ্ধ থাকে না; এর পেছনে থাকে নিরাপত্তা, জ্বালানি, ভূরাজনীতি, অস্ত্রবাণিজ্য এবং মিত্রতার জটিল হিসাব। ইয়েমেনে হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা সেই পুরোনো সত্যটিই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। সৌদি আরবের সমর্থিত বাহিনীর দ্রুত পশ্চাদপসরণ, বাব আল-মান্দাবের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ওপর হুথিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, এরপর রিয়াদের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের সরাসরি সামরিক সহায়তা চাওয়া-সব মিলিয়ে ঘটনাপ্রবাহটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও বিস্ময়কর হলো, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলে হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার অনুরোধ করলেও ট্রাম্প তাতে সম্মত হননি। ওয়াশিংটন বরং গোয়েন্দা তথ্য ও টার্গেটিং সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
এরপরই সামনে এসেছে আরও চমকপ্রদ তথ্য- সৌদি আরব নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মাধ্যমে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সহায়তা চেয়েছে। একাধিক আঞ্চলিক ও ইসরায়েলি সূত্র এমন যোগাযোগের কথা জানিয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে- এটি কি কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের একটি ব্যর্থতা, নাকি সৌদি আরবকে ধীরে ধীরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে ঠেলে দেওয়ার বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ?
প্রমাণ ছাড়া এটিকে পরিকল্পিত ‘ফাঁদ’ বলা যাবে না। কিন্তু ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা এমন একটি প্রশ্ন অবশ্যই তৈরি করেছে।

 

সৌদি আরবের অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়

সাম্প্রতিক হুথি অভিযানে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর দ্রুত পতন রিয়াদের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হুথিরা বাব আল-মান্দাবের আশপাশে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও দ্বীপ দখল করেছে এবং সৌদি-সমর্থিত বাহিনী পশ্চাদপসরণের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সরবরাহ করা বিপুল অস্ত্রও ফেলে গেছে। প্রতিবেদনে এই বিপর্যয়কে সৌদি গোয়েন্দা ব্যর্থতা ও হুথিদের প্রস্তুতি সম্পর্কে ভুল হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
অর্থাৎ, এটি শুধু একটি সামরিক পরাজয় নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তিনটি বড় প্রশ্ন-
প্রথমত, সৌদি গোয়েন্দা ব্যবস্থা এত বড় হুথি প্রস্তুতি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলো কেন?
দ্বিতীয়ত, সৌদি-সমর্থিত বাহিনী এত দ্রুত ভেঙে পড়ল কেন?
তৃতীয়ত, দীর্ঘদিনের মার্কিন নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব থাকা সত্ত্বেও সংকটের মুহূর্তে ওয়াশিংটন সরাসরি যুদ্ধে নামতে অস্বীকৃতি জানাল কেন?
এই তিনটি প্রশ্নের উত্তরই ভবিষ্যৎ মধ্যপ্রাচ্য সমীকরণ বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

ট্রাম্পের ‘না’একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী। কিন্তু এবার সংকটের মুহূর্তে রিয়াদ সরাসরি ওয়াশিংটনের কাছে সামরিক হামলার আবেদন করলেও ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা গোয়েন্দা তথ্য ও টার্গেটিং সহায়তা দেবে, কিন্তু সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যাবে না।
এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে পরিত্যাগ করেছে। বরং ওয়াশিংটন সম্ভবত তার সামরিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করছে- বিশেষ করে ইরান ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বৃহত্তর সংঘাতের মধ্যে নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ ইয়েমেন ফ্রন্ট খুলতে চাচ্ছে না।
কিন্তু রিয়াদের জন্য এর মনস্তাত্ত্বিক বার্তা ভিন্ন। ‘আমেরিকা আমাদের পাশে আছে’ এবং ‘আমেরিকা আমাদের হয়ে যুদ্ধ করবে’ এই দুটি এক কথা নয়।
সৌদি নেতৃত্ব হয়তো এখন এই পার্থক্যটি আরও তীব্রভাবে উপলব্ধি করছে। তারপরই ইসরায়েল-কাকতালীয়, নাকি নতুন সমীকরণ? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি শুরু হয়।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সহায়তার জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং এই যোগাযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
ইসরায়েলি সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে হুথিদের অবস্থান, সম্ভাব্য হামলার পূর্বাভাস এবং সৌদি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় গোয়েন্দা সহায়তা। তবে এসব তথ্যের বড় অংশই বেনামি কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্রনির্ভর; তাই এগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারি তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
তারপরও ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, যে সৌদি আরব এতদিন প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিন প্রশ্নকে সামনে রেখেছে, সেই সৌদি আরবই এখন নিরাপত্তার প্রয়োজনে ইসরায়েলি প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সক্ষমতার দিকে তাকাতে বাধ্য হচ্ছে- যদি এসব প্রতিবেদন সঠিক হয়। তাহলে কি এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পরিকল্পিত ‘ফাঁদ’?
এখানে আবেগ নয়, প্রমাণের দিকে তাকানো জরুরি। এখন পর্যন্ত এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি যে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে সৌদি আরবকে হুথিদের হাতে বিপর্যস্ত করার পরিকল্পনা করেছিল।
অতএব, ‘সৌদিকে ফাঁদে ফেলার জন্যই হুথি অভিযান ঘটানো হয়েছে’ এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না। কিন্তু এর চেয়েও সূক্ষ্ম একটি প্রশ্ন রয়েছে। কোনো সংকট পরিকল্পিতভাবে সৃষ্টি না করেও সেই সংকটকে কি ভূরাজনৈতিক সুবিধায় পরিণত করা যায়? উত্তর- অবশ্যই যায়।
বর্তমান ঘটনাপ্রবাহকে যদি ধারাবাহিকভাবে দেখি, তাহলে চিত্রটি এমন: হুথিদের অগ্রযাত্রা → সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর পতন → সৌদির মার্কিন সামরিক সহায়তার আবেদন → ট্রাম্পের সরাসরি হামলায় অস্বীকৃতি → মার্কিন গোয়েন্দা সহায়তা → যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মাধ্যমে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সহযোগিতা → সৌদি-ইসরায়েল নিরাপত্তা যোগাযোগ বৃদ্ধি।
এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের প্রমাণ নয়। কিন্তু এটি এমন একটি কৌশলগত পথ, যার শেষ প্রান্তে সৌদি-ইসরায়েল নিরাপত্তা সহযোগিতা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে।

 

আব্রাহাম অ্যাকর্ড- সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক প্রশ্ন

এখানেই বিষয়টি আরও গভীর। যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরে সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডে যুক্ত করতে আগ্রহী। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার চুক্তির সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের শর্ত যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল। ওয়াশিংটন বলেছিল, সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডে যোগ না দিলে ওই পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা রয়েছে। সৌদি আরবের নিরাপত্তা যত বেশি ইসরায়েলি প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নির্ভর করবে, ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনের যুক্তিও তত শক্তিশালী হতে পারে। অর্থাৎ, যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজন ধীরে ধীরে কূটনৈতিক বাস্তবতায় পরিণত হতে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য নিঃসন্দেহে একটি কৌশলগত সুবিধা হতে পারে- যদিও এর অর্থ এই নয় যে তারা বর্তমান সৌদি বিপর্যয় পরিকল্পনা করেছিল।

 

ইসরায়েলের জন্য সৌদি আরব কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কোর সম্পর্ক ইতোমধ্যে আব্রাহাম অ্যাকর্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সৌদি আরব সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার দেশ।
সৌদি আরব- আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি; বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক; মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র; উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রীয় শক্তি; এবং ইরানের প্রধান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের একটি।
তাই সৌদি-ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু সৌদি নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা ফিলিস্তিন প্রশ্ন। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি নেতৃত্ব এখনও ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বিষয়ে বাস্তবসম্মত নিশ্চয়তা চায় এবং গাজা যুদ্ধের পর সৌদি জনমতেও ইসরায়েল নিয়ে নেতিবাচকতা বেড়েছে।
অতএব, নিরাপত্তা সহযোগিতা যত দ্রুত এগোক, আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি তত সহজে আসবে- এমন নিশ্চয়তা নেই। উল্টো ফলও হতে পারে। এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা।
সৌদি আরব যদি এই সংকট থেকে এই শিক্ষা নেয় যে- ‘আমেরিকা প্রয়োজনের মুহূর্তে সীমিত সাহায্য করে, ইসরায়েলের ওপর নির্ভরতা রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল, তাই আমাদের নিজেদের কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়াতে হবে’ তাহলে ফল সম্পূর্ণ উল্টো হতে পারে।
রিয়াদ ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে পারে, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে পারে, পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে পারে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুই পক্ষ থেকেই প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহায়তা নিতে পারে। অর্থাৎ, সৌদি আরবের সামনে শুধু দুটি রাস্তা নেই- আমেরিকা অথবা ইসরায়েল। তৃতীয় পথ হলো কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন।

 

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন: পুরোনো ‘নিরাপত্তা বিনিময়’ কাঠামো কি বদলাচ্ছে?

দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রচলিত কাঠামো ছিল- তেল ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ↔ মার্কিন নিরাপত্তা সুরক্ষা। কিন্তু বর্তমান ঘটনাপ্রবাহে নতুন বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে: আঞ্চলিক নিরাপত্তা → একাধিক অংশীদার → যুক্তরাষ্ট্র + ইসরায়েল + আঞ্চলিক শক্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আটটি আরব দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক গোপন বৈঠকের খবরও এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। অ্যাক্সিওস’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশের সামরিক নেতৃত্ব ওই বৈঠকে অংশ নেয়।
অর্থাৎ, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা হয়তো ধীরে ধীরে দ্বিপক্ষীয় মার্কিন-আরব কাঠামো থেকে একটি বহুপক্ষীয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্কে রূপ নিচ্ছে।
তাহলে ‘ফাঁদ’ কোথায়? ফাঁদ যদি কিছু থাকে, সেটি হয়তো কোনো গোপন ষড়যন্ত্র নয়। বরং পরিস্থিতিগত ফাঁদ।
একটি দেশ সামরিক সংকটে পড়ে। তার মিত্র সরাসরি যুদ্ধে নামতে চায় না। বিকল্প নিরাপত্তা সহযোগী সামনে আসে। সেই সহযোগী আবার রাজনৈতিক স্বীকৃতি চায়। আর বৃহৎ শক্তি সেই সম্পর্ককে কূটনৈতিকভাবে উৎসাহিত করে।
ফলে একসময় দেখা যায়- যে সিদ্ধান্তটি প্রথমে নিরাপত্তার প্রয়োজন থেকে নেওয়া হয়েছিল, সেটিই পরে কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়েছে। সৌদি আরবের জন্য এটাই আসল ঝুঁকি।

 

শেষ কথা

বর্তমান ঘটনাকে তাই সরলভাবে ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সৌদিবিরোধী ষড়যন্ত্র’ বলা যেমন তথ্যসম্মত নয়, তেমনি ঘটনাগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ককে নিছক কাকতালীয় বলেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রশ্নটি বরং আরও গভীর।
হুথিদের সামরিক সাফল্য কি সৌদি আরবকে এমন এক নিরাপত্তা বাস্তবতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা আর কূটনৈতিক পছন্দ নয়- বরং প্রয়োজন হয়ে উঠছে। যদি তা হয়, তবে হুথিরা হয়তো শুধু ইয়েমেনের ভূখ- দখল করছে না; তারা অনিচ্ছাকৃতভাবেই মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক মানচিত্রও পুনর্গঠন করছে।
আর যদি সৌদি নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয় যে এই সংকটের শিক্ষা হলো ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নয়, বরং আমেরিকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব কৌশলগত স্বাধীনতা বৃদ্ধি, তাহলে পুরো হিসাবই পাল্টে যেতে পারে।
সুতরাং আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- সৌদি আরব কি আব্রাহাম অ্যাকর্ডের দিকে এগোচ্ছে, নাকি এই বিপর্যয় তাকে আরও স্বাধীন, বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে? এর উত্তর নির্ধারণ করবে শুধু সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ নয়; বরং ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের আগামী শক্তির ভারসাম্যও।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট