চট্টগ্রাম রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

পাহাড়ে নিয়ে ছুরিকাঘাত, মৃত্যুর আগে খুনিদের নাম বলে গেলেন যুবক

পাহাড়ে নিয়ে ছুরিকাঘাত, মৃত্যুর আগে খুনিদের নাম বলে গেলেন যুবক

কক্সবাজার সংবাদদাতা

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১০:৪২ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে সাইফুল ইসলাম (৩১) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মৃত্যুর আগে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি তাঁর ওপর হামলাকারী তিন যুবকের নাম বলে গেছেন বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বইল্ল্যাপাড়া সংলগ্ন জাদী পাহাড়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পাহাড়তলী এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় এক যুবকের কাছ থেকে এক লাখ টাকায় একটি মোটরসাইকেল কিনেন সাইফুল। বিক্রেতা বৈধ কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করলেও তিন মাস পর পুলিশ ভুয়া কাগজপত্রের অভিযোগে গাড়িটি জব্দ করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্রেতা চক্রের সঙ্গে সাইফুলের বিরোধ তৈরি হয়।

পরিবারের অভিযোগ, রবিবার সকাল ১০টার দিকে ওই চক্রের সদস্যরা সাইফুলকে ডেকে জাদী পাহাড়ে নিয়ে যায়। দুপুর আড়াইটার দিকে সেখানে তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে স্বজনরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

নিহতের মায়ের দাবি, হাসপাতালে নেওয়ার পথে সাইফুল কথা বলতে পেরেছিলেন এবং সাগর, বাদশা ও আবুইয়া নামের তিনজন তাঁকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে জানিয়ে যান। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও ধীরগতির কারণেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে মাদক সেবন ও পূর্ববিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী ঘাতকদের সঙ্গে সাইফুলের পূর্বপরিচয় ছিল। তারা একসঙ্গে পাহাড়ে গিয়ে মদ পানে লিপ্ত হয় এবং একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির জেরে সাইফুলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

ওসি আরও জানান, নিহত ও অভিযুক্তদের মধ্যে মাদক লেনদেন এবং মোটরসাইকেল বেচাকেনা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে বলে জানান তিনি।

পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট