চট্টগ্রাম শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

মিয়ানমারে সাগরপথে সার-ডিজেল ও সিমেন্ট পাচারের নিরাপদ রুট

দেড় মাসে তিনটি চালান আটক

মিয়ানমারে সাগরপথে সার-ডিজেল ও সিমেন্ট পাচারের নিরাপদ রুট

সৌমিত্র চক্রবর্তী

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১:০৪ অপরাহ্ণ

মিয়ানমারে সার, ডিজেল ও সিমেন্ট পাচারের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে বঙ্গোপসাগরের সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ চ্যানেল। একটি চক্র সাম্প্রতিক সময়ে এই রুট ব্যবহার করে বারবার বিপুল পরিমাণ সার পাচার অব্যাহত রেখেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে উপকূল রক্ষী বাহিনী। ফলে গত দেড় মাসে তিনটি অভিযানে হাজার হাজার বস্তা সার আটক করেছে তারা। এছাড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি চক্র বঙ্গোপসাগরের সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ চ্যানেল ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ সার, ডিজেলসহ নানান পণ্য প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে পাচার করছে।

গত ২৪ জুলাই এবং ১ সেপ্টেম্বর এই চ্যানেল হয়ে পাচারকালে সারের দুটি চালান আটক করার পর কোস্টগার্ড সমুদ্র পথে সার পাচারকারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠার প্রমাণ পায়। তবে প্রথম দিকে ধারণা করা হচ্ছিল সাগর পথেই সারগুলো কোন জায়গা থেকে আসছিলো। কিন্তু সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে বাঁশবাড়িয়া ঘাট এলাকা থেকে ৩ ট্রাক সার আটকের পর সারগুলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে এই ঘাটের মাধ্যমে সমুদ্রে নামিয়ে পাচার করার প্রমাণ মেলে। যার ফলে পাচারকারী চক্রটির রুট এবার অনেকটা স্পষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এ রুটে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে কোস্টগার্ড। কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই বঙ্গোপসাগরের সীতাকুণ্ড উপকূলে কোস্টগার্ড একটি অভিযান পরিচালনা করে সমুদ্র পথে চোরাচালানের মাধ্যমে মিয়ানমার পাচারের সময় ২টি বোট আটক করে। এসব বোটে তল্লাশি চালিয়ে ৩৬০ বস্তা ডিএপি স্যার, ২২০ বস্তা সিমেন্ট ও ১৩০ লিটার ডিজেল পাওয়া যায়। এসময় বোট দুটিতে থাকা ১০ পাচারকারীকে আটক করা হয়। পরে মালামাল ও আটককৃতদের সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করে থানায় মামলা দায়ের করে কোস্টগার্ড। এরপর ১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারে পাচারকালে সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ চ্যানেলের বাড়বকুণ্ড সমুদ্র এলাকা থেকে ৪১০ বস্তা রাসায়নিক ইউরিয়া সার আটক করেছে কোস্ট গার্ড। আটককৃত সারের আনুমানিক বাজার মূল্য ১৪ লক্ষ্য ৩৫ হাজার টাকা। এ ঘটনাতেও মামলা দায়ের হয়।

এদিকে পরপর দুটি চালান আটক, ১০ পাচারকারী গ্রেপ্তার ও মামলার ঘটনার পর চোরা চালান বন্ধ হবে ধারণা করলেও চোরাকারবারি চক্রটি কতটা বেপরোয়া তার প্রমাণ মিলল গত ১০ সেপ্টেম্বর। এদিন রাত ১০টায় গোপন সংবাদে কোস্টগার্ড জানতে পারে আবারো চক্রটি বিপুল পরিমাণ সার মিয়ানমারে পাচার করার জন্য মহাসড়ক হয়ে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ঘাটে নিয়ে এসেছে। এই খবর পেয়ে ভাটিয়ারী কোস্টগার্ড স্টেশনের সদস্যরা সেখানে অভিযান চালিয়ে ৩টি ট্রাকভর্তি সেসব ইউরিয়া সার আটক করে এবং দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে।

কোস্টগার্ড চট্টগ্রামের মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, এই ৩টি ট্রাকে ৭০০ বস্তা ইউরিয়া সার ছিলো। সারগুলো বাঁশবাড়িয়া ঘাট দিয়ে সমুদ্রে নামিয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এগুলোর আনুমানিক মূল্য ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম। তিনি সারগুলো নিলামে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমাদানের ব্যবস্থা করেন।

এদিকে কোস্টগার্ড চট্টগ্রামের মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আরো জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ চ্যানেল হয়ে মিয়ানমারে পাচারকালে এ নিয়ে তিন দফায় সার, ডিজেল, সিমেন্ট আটক করা হয়েছে। এতে পরিষ্কার যে চোরাকারবারিরা এ রুটকে সার পাচারের জন্য নিয়মিত ব্যবহার করতে চাইছে। কিন্তু কোস্টগার্ডের তৎপরতায় তারা ব্যর্থ হচ্ছে। এ ধরনের পাচার রোধে কোস্টগার্ড আরো কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখছে বলে জানান তিনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, সার পাচারের বিষয়টি আমরাও লক্ষ্য করেছি। গত বৃহস্পতিবারও তিন ট্রাক সার আটক করে তাৎক্ষণিক নিলাম দিয়েছি। নইলে এগুলো পচে যেত। এছাড়া কৃষি বিভাগকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা সারগুলো কোথা থেকে আসছে, এর পেছনে কারা আছে তা তদন্ত করছে।

পূর্বকোণ/নুসরাত

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট