বৃহত্তর ঢাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের ব্যাপক আধুনিকায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই আধুনিকায়নের ফলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় গ্রাহকরা আগের তুলনায় দ্রুতগতির ডেটা, আরও পরিষ্কার ভয়েস কল এবং শক্তিশালী ইনডোর নেটওয়ার্ক কভারেজ পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে ঢাকার ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মানদণ্ড তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে রবি।
রবির দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক রূপান্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহত্তর ঢাকা ও গাজীপুর এলাকায় ৪,৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রায় কোনো ধরনের গ্রাহকসেবা বিঘ্ন ছাড়াই এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আধুনিকায়নের ফলে বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহক অভিজ্ঞতায় সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি হয়েছে এবং কল ড্রপের হার কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।
রবি জানিয়েছে, নতুন প্রজন্মের গিগা গ্রিন ৪জি/এলটিই প্রযুক্তির আধুনিক ও বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বৃহত্তর ঢাকা ও গাজীপুরে ইনডোর কভারেজের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। নতুন প্রযুক্তির কারণে প্রতি গিগাবাইট ডেটা ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচও প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে, যা প্রতিষ্ঠানের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও এগিয়ে নেবে বলে মনে করছে রবি।
বিশেষ করে ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ উচ্চ ডেটা-নির্ভর ডিজিটাল সেবায় গ্রাহকদের আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংযোগ নিশ্চিত করাই এই আধুনিকায়নের অন্যতম লক্ষ্য। তরুণদের জন্য রবির নতুন ডিজিটাল লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘সার্কেল’-এর গ্রাহকরাও এর মাধ্যমে উন্নত নেটওয়ার্ক অভিজ্ঞতা পাবেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার ঢাকার তেজগাঁওয়ে রবির করপোরেট কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে রবির চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান, রবির ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তিয়াস সাতারা ঢাকার নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নকে প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আধুনিকায়নের ফলে ঢাকায় রবির নেটওয়ার্কের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় নতুন সাইট স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে। এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, ঢাকার প্রতিটি এলাকায় একই মানের সেবা নিশ্চিত করতে নতুন সাইট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পেতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির সহযোগিতা প্রয়োজন।
রবি দীর্ঘদিন ধরেই নেটওয়ার্ক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ও আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ৯ হাজার ৩৩১ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে রবি। এ সময়ে কোম্পানিটির সাইটের সংখ্যা ১৩ হাজার ১৭৩ থেকে বেড়ে ১৯ হাজার ৬৪৬টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে রবির স্পেকট্রাম সক্ষমতা ৩ দশমিক ৪ গুণ বেড়ে ১২৪ মেগাহার্টজ হয়েছে।
২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও নেটওয়ার্ক খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে রবির মোট সাইটের সংখ্যা ১৯ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে এবং দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ রবির নেটওয়ার্ক কভারেজের আওতায় এসেছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনেও এগিয়ে থাকার দাবি করছে রবি। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে দেশের নির্দিষ্ট উচ্চ-ট্রাফিক এলাকা—ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বাণিজ্যিকভাবে ৫জি সেবা চালু করেছে।
রবির ভাষ্য, ঢাকার নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নয়; বরং দেশের দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল অর্থনীতি ও ক্রমবর্ধমান ডেটা চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ অবকাঠামো তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আধুনিকায়নের এই ধারাবাহিকতা দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নগরীতেও সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ঢাকার পর চট্টগ্রামের নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের কাজও দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রধান নগরীগুলোতে আরও শক্তিশালী, দ্রুতগতির ও নির্ভরযোগ্য মোবাইল নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে চায় রবি।
রবির দাবি, নেটওয়ার্কের গতি, নির্ভরযোগ্যতা, কলের মান ও ইনডোর কভারেজ—সব ক্ষেত্রেই উন্নতির মাধ্যমে গ্রাহকদের বাস্তব অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন আনাই এই বৃহৎ আধুনিকায়ন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
পূর্বকোণ/জিলানী/ইবনুর

















