চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ জুন, ২০২৬ | ১১:০১ অপরাহ্ণ

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম চট্টগ্রাম জেলা শাখার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়।

 

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার সভাপতি মিরাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাসদ চট্টগ্রাম জেলা ইনচার্জ আল কাদেরী জয়। এছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন সদস্য আহমদ জসিম, নগর শাখার সদস্য রাকিব, এবং সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সুপ্রীতি বড়ুয়া। সভাটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র ফ্রন্টের স্কুল বিষয়ক সম্পাদক উম্মে হাবিবা শ্রাবণী।

 

আলোচনা সভায় বক্তারা জাহানারা ইমামের অকুতোভয় সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় লড়াইয়ের এক মহান প্রেরণা। ১৯৭১ সালে তাঁর ছেলে রুমি ‘ক্র্যাক প্লাটুনের’ হয়ে বীরত্বপূর্ণ গেরিলা যুদ্ধে অংশ নিয়ে শহীদ হন।

 

বক্তারা উল্লেখ করেন, শহীদ রুমির মা হিসেবে জাহানারা ইমাম সারাজীবন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে লড়াই করেছেন এবং ১৯৯২ সালে গণআদালত গঠনের মাধ্যমে তিনি ‘শহীদ জননী’ উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁর রচিত “একাত্তরের দিনগুলি” গ্রন্থটি আজও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম দলিল হিসেবে স্বীকৃত।

 

বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার আজও ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। জুলাই ‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, বারবার রক্ত দিলেও সাধারণ মানুষের শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্তি মিলছে না।

 

সভায় দেশে বাড়তে থাকা সাম্প্রদায়িকতা, মব কালচার এবং প্রগতিশীল সংস্কৃতির ওপর আঘাতের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বক্তারা প্রথম আলো, উদীচী ও ছায়ানটে হামলাসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এছাড়া গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী বিশাল বাজেটের সমালোচনা করে তারা বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের চেয়ে পুঁজিপতিদের সুবিধা দেওয়াকে এই বাজেটে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

 

পরিশেষে, বক্তারা একটি বৈষম্যহীন ও সমতার বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আদর্শ ও সংগ্রামকে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

 

পূর্বকোণ/সরওয়ার/সিজান

শেয়ার করুন