শিল্প কারখানার দূষিত বর্জ্যের কারণে চান্দগাঁও বাহির সিগন্যাল সংলগ্ন এলাকায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১২৯ কানি জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ৩০ কৃষকের ১৭ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
চলতি বছরের ৮ এপ্রিল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে বাহির সিগন্যাল এলাকায় মিল কারখানার শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও তৎসংশ্লিষ্ট এলাকায় কৃষকের বীজতলা সুরক্ষা সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিসিক চট্টগ্রাম, পানি উন্নয় বোর্ড, চট্টগ্রাম, এলজিইডি, চট্টগ্রাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনকে দূষণ রোধে নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম ও গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিচালক সোনিয়া সুলতানা জানান, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত বুধবার জলবায়ু মন্ত্রণালয়ে আমরা একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।
জলবায়ু মন্ত্রণালয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহির সিগন্যাল এলাকায় কলকারখানার শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকের বীজতলা সুরক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে গত ৮ এপ্রিল একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাহির সিগন্যাল এলাকায় মিল কারখানার শিল্প দূষণ ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় কৃষকের বীজতলা সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয় থেকে সভার অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রশাসনিক মন্ত্রনালয়ে অবহিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠির আলোকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম তাদের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিয়েছে গত ২১ মে। অন্যান্য কার্যালয় থেকে অদ্যাবধি (২৫ জুন) কোন অগ্রগতি প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, সিডিএ বামনশাহী খালের সংস্কার কাজ করছে। যা বর্তমানে চলমান। সিটি কর্পোরেশন কৃষ্ণখাল সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাহির সিগন্যাল এলাকায় অবস্থিত শিল্প কারখানার ইটিপি আইপি ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। মানমাত্রা বহির্ভূত তরল বর্জ্য নিঃসরনের জন্য এনফোর্সমেন্ট মামলার পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য ও আদায় করা হয়। যেমন- মানমাত্রার বাইরে তরল বর্জ্য নিঃসরণ করার অপরাধে পেপ ওয়াশিং ইন্ডাস্ট্রিজের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত ২৪ জুন বাহির সিগন্যাল এলাকা পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ সময় দেখা যায়, বামনশাহী খালে সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। তবে বামনশাহী ও কৃষ্ণখালের সাথে সংযুক্ত ড্রেন ও নালাগুলো গৃহস্থালী বর্জ্য, প্লাস্টিক বর্জ্য, ঘাস-খড় ও কচুরিপানাতে ভরাট হয়ে গেছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের খাল ও নালা নিয়মিত পরিষ্কার করলে এবং কৃষ্ণখালের সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করলে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হতে পারে ।
দূষণের কারণে কী পরিমাণ কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার বর্ণনা দিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের (মেট্রো) কাছে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম।
অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আপ্রু মারমা স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহির সিগন্যাল এলাকা ও পাশ্ববর্তী ৪ নং ওয়ার্ডের অনন্যা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন হুলিয়া বিল, ব্রাহ্মণ শাহ বিল, কুয়াইশ খাল ও কৃষ্ণ খাল এলাকার শিল্প কারখানাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে ইটিপি স্থাপন করা যেতে পারে। হাটহাজারী উপজেলা অংশে কুয়াইশ খাল, ব্রাহ্মন শাহ খালের মুখ, হুলিয় বিলের খালের মুখ, কুয়াইশ খালের অংশ বিশেষ এবং অনন্যা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন নালাগুলো সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে সংস্কার/পুনঃনির্মাণ/খাল খনন করে স্লুইসগেট দিয়ে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহির সিগন্যাল এলাকার শিল্প কারখানার দূষিত বর্জ্যরে কারণে হুলিয়া বিল, ব্রাহ্মণ বিল, কুয়াইশ খাল, কৃষ্ণখালী খাল ও বাহির সিগন্যাল এলাকার ৩০ জন কৃষকের ৫১৪০ শতক কৃষি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে| যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
পূর্বকোণ/রাকিব















