চট্টগ্রাম রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২, আহত ৩০৯

অনলাইন ডেস্ক

১১ অক্টোবর, ২০২৬ | ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০৯ জন। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার বিমানবন্দরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হুতি গোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি দাবি করেছেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার জবাবে তাঁরা এ অভিযান চালিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সৌদি বাহিনীর হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতি অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

বিমানবন্দরে হামলার পর আহতদের অ্যাম্বুলেন্স ও হেলিকপ্টারে করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। এতে হাসপাতালগুলোতে ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

চলতি সপ্তাহে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটি তৃতীয় হামলার ঘটনা। সর্বশেষ হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। রিয়াদগামী ফ্লাইটগুলো অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অথবা বাতিল করা হয়েছে।

 

বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরে আতঙ্ক

হামলার সময় বিমানবন্দরে অবস্থান করা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি বিস্ফোরণের ঘটনা দেখেছেন। পরে বিমানবন্দরের ভেতরে কয়েকজনকে আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় এক ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্সকে দ্রুত বিমানবন্দরের দিকে যেতে দেখা যায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের যাচাই করা একটি ভিডিওতেও বিমানবন্দরে অ্যাম্বুলেন্সের উপস্থিতি দেখা গেছে।

হামলায় আহত এক যাত্রী রয়টার্সকে জানান, বিমানবন্দরের বাইরে আকাশে একটি বস্তুকে উড়ে যেতে দেখার পর বহির্গমন ফটকের কাছে ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে।

অন্যদিকে, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে হামলার ঘটনা প্রত্যক্ষ করা এক যাত্রী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তিনি ৪০৩ নম্বর গেটে ছিলেন। এ সময় ৪০১ নম্বর গেটে হামলা হতে দেখেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং আতঙ্কিত যাত্রীরা ছোটাছুটি শুরু করেন।

চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলার পর গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা চিকিৎসকদের জরুরি ভিত্তিতে কর্মস্থলে তলব করেন।

 

সৌদির অন্য বিমানবন্দরের কাছেও প্রজেক্টাইলের আঘাত

রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সৌদি নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট জানিয়েছে, দেশটির দাম্মাম শহরের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। হুতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইরত জোটের একজন মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানান।

এরপর আজ রোববার ভোরে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সৌদি রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।

এর আগে চলতি সপ্তাহে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি হামলায় চারজন নিহত হন। এ ছাড়া বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবস্থানরত সৌদি আরবের একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সর্বশেষ হামলার আগে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এমনকি সৌদি আরবের হুমকি শনাক্তকরণ ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থাও এ ঘটনায় কোনো সংকেত দেয়নি বলে জানা গেছে।

 

শতাধিক ফ্লাইট বাতিল, ব্যাহত বিমান চলাচল

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। এ কারণে সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী ফ্লাইটগুলো অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অথবা বাতিল করা হয়েছে। হামলার পর একপর্যায়ে বিমানবন্দরের আকাশে কেবল একটি হেলিকপ্টারকে চক্কর দিতে দেখা যায়।

ওয়েবসাইটটির তথ্য বলছে, গতকাল শনিবার ১৫৫টি আগমনী এবং ১৬১টি বহির্গামী ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ২২২টি ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণে বিলম্ব হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে এবং গত বৃহস্পতিবার হুতি গোষ্ঠীর হামলার পরও বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ সংস্থা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তাদের ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করেছিল।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট