চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

নেপালের বন্যায় মৃত্যুর স্যংখ্যা ১০০০ ছাড়াল

নেপালের বন্যায় মৃত্যুর স্যংখ্যা ১০০০ ছাড়াল

অনলাইন ডেস্ক

১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৯:০৮ অপরাহ্ণ

নেপালের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে। এখনও প্রায় ৩ হাজার ৯০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

 

তাদের মধ্যে ৬০০ জনের বেশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাদায় ভরা সুড়ঙ্গে আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে সুড়ঙ্গগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে।

 

সোমবার একটি সুড়ঙ্গে প্রবেশ করতে সক্ষম হলেও কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ধারকারীরা এখনও আশা ছাড়েননি।
নিখোঁজ প্রকৌশলী অরুস ভান্ডারির স্ত্রী অনুশিলা ভান্ডারি বিবিসি নেপালকে বলেন, ‘আমি চাই আমরা তাকে খুঁজে পাই। আমি চাই সে বাড়ি ফিরে আসুক।


প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। চীন ও নেপালের সামরিক সদস্যদের নেতৃত্বে চলছে উদ্ধার অভিযান। এতে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত হয়েছেন।

 

নেপালের পাহাড়ি নদীগুলোকে ঘিরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দেশটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বন্যায় অন্তত ১১টি প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি নির্মাণাধীন ছিল।

 

উদ্ধারকাজ ধীরগতির হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিখোঁজদের স্বজনরা। জীবন খাড়কা নামে এক স্বজন বলেন, ‘যত সময় যাচ্ছে, আমাদের আশা ততই শেষ হয়ে যাচ্ছে। উদ্ধার অভিযান আরও দ্রুত হওয়া দরকার, কারণ আমাদের কাছে প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ।’

 

দুর্যোগের ভয়াবহতা বোঝাতে অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স বলেন, সুড়ঙ্গগুলোর চিহ্নই এখন খুঁজে পাওয়া কঠিন। তার ভাষায়, পুরো এলাকা যেন ‘চাঁদের পৃষ্ঠের মতো’ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বাড়ির চেয়েও বড় পাথর পড়ে আছে বলেও জানান তিনি।

 

এদিকে বন্যায় ভেসে আসা মরদেহ নিয়ে চরম সংকটে পড়েছে চিতওয়ান জেলা। নদীর স্রোতে সেখানে প্রায় ৩০০ মরদেহ এসে পৌঁছেছে। দুর্গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। পরিচয় শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলো সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অস্থায়ীভাবে দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া প্রায় ৯০০ মরদেহের মাত্র ৪ শতাংশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজ স্বজনদের শনাক্ত করতে মরদেহ থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করছেন চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবীরা।

 

তিব্বতের অংশেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৬ জন নিহত এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যার ছবি ও তথ্য প্রকাশে চীনে কঠোর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অনলাইনে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ‘গুজব’ ছড়ানোর অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

 

নেপালেও বন্যা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে অনলাইন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি

 

পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট