চট্টগ্রাম সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

ইস্তাম্বুলে ‘মক্কা চুক্তি’র প্রথম বৈঠকে বসছে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব

ইস্তাম্বুলে ‘মক্কা চুক্তি’র প্রথম বৈঠকে বসছে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩১ আগস্ট, ২০২৬ | ৩:৪৯ অপরাহ্ণ

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে গঠিত কৌশলগত, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি-র প্রথম বৈঠক সোমবারে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সার্বিক কর্মকাণ্ডে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।

 

তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগলু অংশ নেবেন। পাকিস্তানের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, ফেডারেল প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এবং সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সৌদি আরবের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল ফায়াদ বিন হামেদ আল-রুয়াইলি উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

 

বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তিন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া যৌথ উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়নসহ প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা জোরদার করা এবং যৌথ সন্ত্রাসবাদ বিরোধী পদক্ষেপ শক্তিশালী করার কৌশল নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।

 

বৈঠকে যৌথ কার্যক্রমের তদারকির জন্য একটি সচিবালয় ও প্রয়োজনীয় কাঠামোর রূপরেখা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি আগামী দিনের পদক্ষেপের রোডম্যাপ তৈরি করা হবে। নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার, সমবায় নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি এবং সংঘাতের চেয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিতে ইচ্ছুক যেকোনও দেশের জন্য এই চুক্তি যে বড় সুযোগ তৈরি করছে, তা পুনর্ব্যক্ত করার সুযোগ দেবে এই বৈঠক।

 

গত ৭ আগস্ট মক্কায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যৌথভাবে এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

 

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতার মুখে পারস্পরিক দায়িত্ববোধ থেকে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো যৌথ প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদারের মাধ্যমে অঞ্চলে ও বিশ্বজুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখা।

 

চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, কোনও একটি সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা বাকি সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত এই চুক্তি আন্তর্জাতিক আইন মান্যকারী এবং শান্তিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন অন্যান্য দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

পূর্বকোণ/সিজান

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট