চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

আকবরের না, খোঁজা হচ্ছে বিকল্প

চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি 

সুসময়েও কমিটি না থাকার  হতাশায় নেতাকর্মীরা

মোহাম্মদ আলী

১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২:৫০ অপরাহ্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে তাদের দায়িত্ব ছয়মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরের মধ্যে দলে চলছে এখন সুদিন। কিন্তু এ সুদিনের মধ্যেও ভাল নেই দলের অনেকে। নিয়মিত কমিটি না থাকায় দলের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে হতাশা কাজ করছে। গত ১৫ মাস ধরে কমিটি নেই চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির। ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই রাউজানে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পর উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দেয় কেন্দ্র। এরপর থেকে নতুন করে কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এ অবস্থায় স্থবির হয়ে পড়েছে দলের রাজনৈতিক  কর্মকাণ্ড এমন কি দলের সুসময়েও এবার বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে উত্তর জেলা বিএনপির কোনো কর্মসূচি নেই। কমিটি না থাকায় দলের মধ্যে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম পূর্বকোণকে বলেন, ‘উত্তর জেলা বিএনপির নতুন কমিটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কমিটির অবর্তমানে এবার প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করবেন।’
বিএনপির একাধিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পর মুক্ত পরিবেশে রাজনীতি করছে দলটি। ইতোমধ্যে তিন সাংগঠনিক জেলা মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন থানা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি না থাকায় সাংগঠনিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে দলটি। এ নিয়ে তৃণমূলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
দলটির একাধিক সূত্র জানায়, বিগত সরকারের ১৭ বছরে যথাসময়ে সম্মেলন করতে পারেনি বিএনপি। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পর মুক্ত পরিবেশের দুই বছরেও সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপি চট্টগ্রামে একটিও জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও মহানগর কমিটি করতে পারেনি। মূলত  সিদ্ধান্ত দিতে কেন্দ্রের ধীরগতি, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, শৃঙ্খলার অভাব, নেতৃত্বের মধ্যে আস্থার সংকট এবং যোগ্য ও ত্যাগীদের কাক্সিক্ষত পদ না দেওয়ার কারণে দলের মধ্যে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে দলে প্রভাব বেড়েছে কিছু সুবিধাবাদী নেতাকর্মীর।
যাদের অতীতে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে তেমন একটা দেখা যায়নি। তাদের প্রতাপে অনেকটা কোণঠাসা বিগত দুর্দিনে দলের হাল ধরা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এবং মামলার শিকার হওয়া অনেক নেতাকর্মী। এ অবস্থায় সম্মেলন করে কমিটি গঠন না করার কারণে সুবিধাবাদীরা নানা উপায়ে পদ ভাগিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়াও ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ নিয়ে দলের মধ্যে জবাবদিহিতার চর্চা কম থাকায় এসব কমিটি কৌশলে বছরের পর বছর সময় পার করে দিচ্ছে। এ কারণে তিন মাস কিংবা ৬ মাস মেয়াদের আহ্বায়ক কমিটি সময় পার করে দিচ্ছে বছরের পর বছর। এতে দলের মধ্যে উঠে আসছে না নতুন নেতৃত্ব। 
 
বিএনপি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা কমিটি। এ তিন সাংগঠনিক জেলায় সবমিলে উপজেলা ও থানা কমিটি রয়েছে সমান সংখ্যক ১৫টি করে ৩০টি, সাংগঠনিক ইউনিট ১টি এবং পৌরসভা ১৫টি। এর মধ্যে উত্তর জেলার ৭ উপজেলা ও ৯ পৌরসভা বিএনপির কমিটি থাকলেও নগরের ১৫ থানা ও ১১ ওয়ার্ড এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার ৮ উপজেলা, ১ সাংগঠনিক ইউনিট এবং ৬ পৌরসভার কোন কমিটি নেই। 
দক্ষিণ জেলা বিএনপি : ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাঁচ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি দেয় কেন্দ্র। এরপর একই বছরের ৫ মে কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেওয়া হয় ৫৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি। এর ১৭ দিন পর ২২ মে দক্ষিণ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সভায় জেলার আওতাধীন মেয়াদোত্তীর্ণ সকল উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে জেলা কমিটি এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। কিন্তু গত ১৫ মাসেও কমিটি ছাড়াই চলছে দক্ষিণ জেলার আওতাধীন ৮ উপজেলা, ৬ পৌরসভা ও ১ সাংগঠনিক ইউনিট।
তবে উপজেলা, পৌরসভা ও সাংগঠনিক ইউনিটের আহ্বায়ক কমিটির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কমিটি। যে কোন সময় কমিটি ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন মো. হেলাল উদ্দিন। পূর্বকোণকে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সহসা এসব কমিটি ঘোষণা দেওয়া হবে।’
মহানগর বিএনপি : চট্টগ্রাম মহানগরে আগে ৪১টি ওয়ার্ড ও ২টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড মিলে মোট ওয়ার্ড ছিল ৪৩টি। এবার আরো ৫টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড বৃদ্ধি করে মোট ওয়ার্ড করা হয়েছে ৪৮টি। ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর নগরের ১৫ থানা ও ৪৩ ওয়ার্ড কমিটি ভেঙে দেয় নগর বিএনপি। এরপর গত ২০২৫ সালের ৩ জুন দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এসব ওয়ার্ডের তিন সদস্যের কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ওই কমিটিতে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ছাড়াও একজন করে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। এর মধ্যে গত ২০২৫ সালের জুনে কয়েক দফায় ৩৭টি ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। অবশিষ্ট ১১ ওয়ার্ডের এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। একইসাথে ঘোষণা করা হয়নি নগরের ১৫ থানার বিএনপি কমিটি। এ কারণে দলের অনেকের মধ্যে হতাশা কাজ করছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নগর বিএনপির অবশিষ্ট ১১ ওয়ার্ড ও থানা কমিটিগুলো চ‚ড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব কমিটি ঘোষণা বন্ধের নির্দেশনা দেয় কেন্দ্র। তাই কমিটি আর ঘোষণা দেওয়া যায়নি। এখন আমরা কমিটি ঘোষণা দিতে প্রস্তুত আছি। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পেলেই অবশিষ্ট কমিটিগুলো ঘোষণা দেওয়া হবে।’
পূর্বকোণ/নুসরাত

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট