ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বীপটিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দুটি রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ভূখণ্ডে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পরিচিত হামলা বলে জানিয়েছে বিবিসি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, লারাক দ্বীপে থাকা দুটি লঞ্চার থেকে হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনের উদ্দেশ্যে রকেট ছোড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এ অবস্থায় সেগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা হয়।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা চলছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, মার্কিন হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের দেওয়া তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপন এবং নৌযান চলাচল ব্যাহত করার আশঙ্কা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সতর্ক করেছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, নতুন করে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
মার্কিন হামলার পর অঞ্চলটিতে পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে মার্কিন স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
লারাক দ্বীপ হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। ফলে সেখানে নতুন করে মার্কিন-ইরান সামরিক সংঘাতের ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি পরিবহনের ওপর নতুন করে কোনো বিধিনিষেধ বা হামলা তৈরি হলে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
সূত্র: বিবিসি
পূর্বকোণ/সিজান

















