দেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক-এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গঠিত ৩,০০০ (তিন হাজার) কোটি টাকার কৃষিভিত্তিক বিশেষ পুঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় সম্প্রতি এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র স্থাপন করা এবং কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও ত্বরান্বিত করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ এবং এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জনাব আরিফ হোসেন খান উপস্থিত ছিলেন। ওয়ান ব্যাংকের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির আহমেদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে কৃষিঋণ বিভাগ-২-এর পরিচালক এ.কে.এম. সাইদুজ্জামান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় ওয়ান ব্যাংকের এগ্রিকালচার অ্যান্ড এনজিও ফাইন্যান্স প্রধান মো. মঞ্জিল ইয়াদুল হোসেনসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় মোট তহবিলের অর্থ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে বরাদ্দ করা হবে- ১৫ শতাংশ তহবিল- শস্য, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং গ্রামীণ ঋণ কার্যক্রমের মতো সরাসরি কৃষি উৎপাদন খাতে ব্যয় করা হবে।
৩৫ শতাংশ তহবিল- কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ, পরিবহন, বিপণন এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগত উন্নয়নের সহায়তার জন্য বরাদ্দ থাকবে। অবশিষ্ট ১৫ শতাংশ তহবিল-কৃষিপণ্যের সরাসরি রপ্তানি এবং রপ্তানিমুখী কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার কাজে ব্যবহার করা হবে।
এই সমঝোতার ফলে দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন, সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এটি দেশের প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার কৃষিভিত্তিক কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (CMSME) উদ্যোগগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এছাড়াও, এই উদ্যোগটি ওয়ান ব্যাংকের নিজস্ব কৃষি অর্থায়ন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

















