চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৬ আগস্ট, ২০২৬ | ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

ইরান পারস্য উপসগারীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, তার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো নতুন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে আঘাত হানবে তারা।

 

পাঁচটি সূত্র এমন তথ্য দিয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বৃহস্পতিবার জানিয়েছে। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় সবগুলো সূত্রই তাদের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

 

সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২৮ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোতে হামলা চালানোর হুমকি দেওয়ার পর একাধিক উচ্চ-পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

 

আলোচনা সম্পর্কে অবগত দুজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা, দুটি উপসাগরীয় সূত্র এবং একজন ঊর্ধ্বতন আঞ্চলিক কূটনীতিক বলেছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি তার সৌদি, তুর্কি ও কাতারি সমকক্ষদের পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গেও কথা বলেছেন। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সকলেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

 

জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আরাকচি ওয়াশিংটনের উপসাগরীয় মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ট্রাম্পকে নতুন করে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে তাদের প্রভাব ব্যবহার করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর যেকোনো হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরজুড়ে মার্কিন সম্পদ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে।

 

কূটনীতিক বলেন, প্রতিটি কথোপকথনে তার বার্তা ছিল একই, ‘আমরা পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত, কিন্তু এই অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা বৃদ্ধি ও ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানোর সর্বোত্তম উপায় হলো একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা।

 

উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের সতর্কবার্তা ছিল দ্ব্যর্থহীন: আমেরিকা যদি ইরানের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে, তবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে এর প্রতিশোধ নেবে।

 

এই কূটনৈতিক কৌশলটিই তুলে ধরে যে, ইরান কীভাবে আরও মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে বৃহত্তর আঞ্চলিক ধ্বংসের হুমকি ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা এবং জ্বালানি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মাঝে এক কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে।

 

জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান পরবর্তীতে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁকে সামরিক পদক্ষেপ বিলম্বিত করতে, আলোচনায় ফিরতে, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে আহ্বান জানিয়েছেন।

 

আরেকটি উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছে, সতর্কবার্তাটি প্রতিটি উপসাগরীয় রাষ্ট্রের জন্যই ছিল, কিন্তু এটি মূলত সৌদি আরব ও কাতারের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান তার সাবেক আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করেছে।

 

দ্বিতীয় এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন হামলার আরেকটি পর্ব ‘এই অঞ্চলকে অগ্নিগোলকে পরিণত করতে পারে’ বলে ইরানের সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে কাতার, ওমান ও সৌদি আরব সবাই ওয়াশিংটনকে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে এবং নতুন করে সংঘাত এড়াতে আহ্বান জানিয়েছে।

 

বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের হুমকি, বলেছেন ইরানি কর্মকর্তা

উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম সূত্রটি জানিয়েছে, সৌদি আরব মনে করে, উত্তেজনা আরও বাড়লে তা কেবল আরও ধ্বংসযজ্ঞই ডেকে আনবে। এ কারণেই তারা ট্রাম্পকে কূটনীতিকে একটি সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে।

ওয়াশিংটনকে কূটনীতি অনুসরণের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি রিয়াদ এও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, হুমকির মুখে পড়লে তারা আত্মরক্ষা করবে। দ্বিতীয় একটি উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব সতর্ক করেছে যে তাদের ভূখণ্ডে যেকোনো হামলার সামরিক জবাব দেওয়া হবে।

রাজদরবারের ঘনিষ্ঠ সৌদি বিশ্লেষক আলী শিহাবি বলেছেন, রাজ্যের মূল্যায়ন হলো, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভের সম্ভাবনা কম। শিহাবি বলেন, রাজ্য বিশ্বাস করে যে, আনুপাতিক সামরিক পদক্ষেপ এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ওপর ধারাবাহিক চাপের সমন্বয়ই একটি বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক সমাধানের সবচেয়ে শক্তিশালী পথ।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট