সুর আর স্মৃতির সমান্তরালে ফুটে উঠেছিল এক অপূর্ব আলেখ্য। আষাঢ়-শ্রাবণের কোনো এক সিক্ত সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির গ্যালারি যেন রূপ নিয়েছিল মেলোডি আর খাঁটি সখ্যতার এক রূপকথা মঞ্চে। চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন ’৮৩ ব্যাচ (কুসাব ’৮৩)-এর আয়োজনে এবং শিল্পকলার সার্বিক সুর-বাতাবরণে গতকাল সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হলো এক মনোজ্ঞ ও আবেগঘন যৌথ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা—’ইতমাম’।
নস্টালজিয়া আর আভিজাত্যের মিশেলে গড়া এ সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলিত করেছিল সংগীতের শাশ্বত সুরধারা। টেলিভিশন ও বেতারের সুরললিত কণ্ঠশিল্পী আলোয়া আরিফ তাঁর জাদুকরী গায়কীতে পুরো মিলনায়তন জুড়ে ছড়িয়ে দেন সুরের ঘোর। তাঁর সাথে সুরের সেই আলোকশিখা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেন তাঁর সুযোগ্য সন্তান, তরুণ প্রতিভাবান কণ্ঠশিল্পী ও যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনার উদীয়মান নক্ষত্র সৈয়দ মোহাম্মদ ইতমাম। মা ও ছেলের মেলোডিয়াস দ্বৈত ও একক পরিবেশনা উপস্থিত প্রতিটি সুররসিক হৃদয়কে আচ্ছন্ন ও বিমোহিত করে রাখে।
নাসরিন ইসলামের ছন্দময় ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সুরের এই আড্ডাকে সম্মানিত করেন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ ঈসাম হোসাইন।
পুরোনো বন্ধুত্বের স্মৃতিকাতরতা ও সংস্কৃতির এই মহা-মিলনমেলায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিপিং ব্যবসায়ী সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আবদুল মান্নান রানা-সহ কুসাব ’৮৩-এর সদস্যবৃন্দ, চট্টগ্রাম সংস্কৃতি অঙ্গনের বরেণ্য শিল্পী এবং শিপিং ও ব্যবসায়ী খাতের অগণিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের মুগ্ধতা প্রকাশ করে কুসাব সদস্য মামুন হোসাইন বলেন— ‘সুর শুধু বিনোদন দেয় না, সুর আত্মাকে বেঁধে রাখে। এ ধরনের নিখাদ সাংস্কৃতিক আয়োজন আমাদের প্রাক্তন বন্ধুদের হৃদয়ের বন্ধন, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক ভালোবাসাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যায়।’
কুসাব ’৮৩-এর সভাপতি নাছিরউদ্দিন চৌধুরী তাঁর সমাপনী বক্তব্যে এই শৈল্পিক যাত্রাকে অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সুদৃঢ় সম্প্রীতি ও সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চাকে লালন করতে ভবিষ্যতেও জেলা শিল্পকলা একাডেমির মতো নান্দনিক মঞ্চে এ ধরনের সুরময় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
সুরের মায়াজাল, পুরনো স্মৃতি আর হৃদয়ের উষ্ণতায় বাঁধাপড়া এই সন্ধ্যাটি চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।















