চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

ফুল-মিষ্টির স্বাদ ও গন্ধে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা

মৌসুমের প্রথম জাহাজ

ফুল-মিষ্টির স্বাদ ও গন্ধে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা

টেকনাফ সংবাদদাতা

৫ নভেম্বর, ২০২৬ | ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হলো পর্যটকদের বহুল কাঙ্ক্ষিত সেন্টমার্টিন ভ্রমণ। মৌসুমের প্রথম দিনেই ৮৩৬ জন যাত্রী নিয়ে প্রবাল দ্বীপে নোঙর করেছে পর্যটকবাহী জাহাজ ‘এমভি বার আউলিয়া’। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এই দ্বীপে পা রাখতেই পর্যটকদের ফুল ও মিষ্টি দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। একদিকে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মনে ফিরেছে স্বস্তি, অন্যদিকে দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় কড়াকড়ি আরোপ করায় মিলেছে এক নতুন সুশৃঙ্খল বার্তা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায় মৌসুমের প্রথম জাহাজটি। দুপুরের দিকে জাহাজটি দ্বীপে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী ও হোটেল-রিসোর্ট মালিকেরা জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর পর্যটকদের আগমন ঘটায় দ্বীপের অর্থনীতি ও পর্যটনে ফের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। অনেক পর্যটক আগে থেকেই কক্ষ বুকিং করে রেখেছিলেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে উচ্ছ্বাসী ছিলেন ভ্রমণপিপাসুরাও।

এবারের পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়েছে কঠোর ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। নুনিয়ারছড়া ঘাটে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা।

ঘাটেই পর্যটকদের ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল ইউজ) প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন ও সাউন্ডবক্স জাহাজে নিতে বাধা দেওয়া হয়। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দ্বীপের কেয়াবনে প্রবেশ, ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া, রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দে গান বাজানো, বারবিকিউ পার্টি এবং সামুদ্রিক প্রবাল, কাছিম বা শামুক-ঝিনুকের ক্ষতি হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

মৌসুমের প্রথমবার সেন্টমার্টিন যাওয়ার সুযোগ পেয়ে কফিল আনোয়ার ও তাঁর পরিবারের মতো অনেকেই আনন্দ প্রকাশ করলেও, প্রথম দিনের ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিছু পর্যটক। সাভার থেকে আসা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অনলাইন টিকিটের প্রিন্ট কপি সঙ্গে না থাকায় এবং শুধু মোবাইলের বার্তা দেখালেও তাকে প্রথমে জাহাজে উঠতে বাধা দেওয়া হয়। এছাড়া ঢাকার অন্যান্য নৌপথের তুলনায় এখানকার টিকিটের দাম তুলনামূলক বেশি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এই রুটে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে তিনটি জাহাজ—এমভি বার আউলিয়া (ধারণক্ষমতা ৮৫০), এমভি কর্ণফুলী (৭৩২) এবং এমভি টেকনাফ (৭১৬)। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এসব জাহাজ প্রতিদিন নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাবে এবং বেলা সাড়ে ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে ফিরতি যাত্রা করবে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এই সময়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক ভ্রমণ ও রাতযাপনের সুযোগ পাবেন। তবে দ্বীপে প্রবেশ করতে হলে প্রতিটি পর্যটককে বাধ্যতামূলকভাবে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে এবং ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট নিশ্চিত করতে হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী ও স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, প্রথম দিনে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সচেষ্ট ছিল। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অনুমোদিত জাহাজগুলোও চলাচল শুরু করবে। প্রবাল দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে পর্যটকরা আনন্দময় এক ভ্রমণ উপহার পাবেন—এমনটাই সকলের প্রত্যাশা।

পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট