চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম ক্লাবের অতিথিশালায় বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতিতে চুয়েট শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল তাঁর হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেন। হস্তান্তরকালে চুয়েটে দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রশাসনিক অচলাবস্থা, একাডেমিক কার্যক্রমের স্থবিরতা এবং উপাচার্য পুনর্বহাল আন্দোলনের সার্বিক প্রেক্ষাপট তাঁর সামনে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন শিক্ষার্থীরা।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, সাবেক উপাচার্য পদত্যাগ করার পর থেকে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে চরম সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। রুটিন দায়িত্ব কিংবা সাময়িক সিদ্ধান্তের ওপর ভর করে একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামো সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে না। ফলে শিক্ষার্থীদের সেশনজটে পড়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই চুয়েটে দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের জোর দাবি জানান তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনার পর রুহুল কবির রিজভী চুয়েট আন্দোলনের সুশৃঙ্খল ও অহিংস রূপের প্রশংসা করেন। কোনো ধরনের অরাজকতা বা বিশৃঙ্খলা ছাড়া এতদিন আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ঢাকায় ফিরে সরকারের সর্বোচ্চ মহল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে চুয়েটের এই সংকট কাটাতে তিনি ইতিবাচক ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিস হাসান নাফি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের নিকট আমাদের মূল দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছি। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। আমাদের আশা, উনার উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার চুয়েট শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির আলোকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।”
উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য পুনর্বহালের এই আন্দোলন চলাকালে চুয়েট শিক্ষার্থীরা ইতিপূর্বে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছেও স্মারকলিপি হস্তান্তর করেছিলেন।
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ



















