চট্টগ্রাম সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

অস্তিত্ব সংকটে পারকি সৈকত

ঝাউবন কমছে, সৈকতে বাড়ছে কাদা

অস্তিত্ব সংকটে পারকি সৈকত

আনোয়ারা সংবাদদাতা

২ নভেম্বর, ২০২৬ | ১:১৯ অপরাহ্ণ

আনোয়ারা উপজেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র পারকি সমুদ্রসৈকত। একসময় বিস্তীর্ণ সোনালি বালুরাশি আর সারি সারি সবুজ ঝাউবনে ঘেরা এই সৈকত ছিল পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। তবে সময়ের ব্যবধানে বদলে যাচ্ছে সেই চেনা দৃশ্য। সৈকতের বিশাল এলাকাজুড়ে পলি ও কাদা জমে ব্যাহত হচ্ছে পর্যটকদের স্বাভাবিক চলাচল। ভাঙন ও নানা অব্যবস্থাপনায় ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে সৈকতের সৌন্দর্যবর্ধক ঝাউবন। সব মিলিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে সম্ভাবনাময় এই পর্যটনকেন্দ্র।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈকতের বিভিন্ন স্থানে পলি ও কর্দমাক্ত মাটি জমে রয়েছে। এতে পর্যটকদের হাঁটাচলা ও সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝাউবাগানের অনেক গাছের গোড়ার মাটি সরে গেছে। আগের তুলনায় কমেছে ঝাউবনের বিস্তৃতি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ, পরিবেশগত পরিবর্তন ও যথাযথ তদারকির অভাবে ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই পর্যটনকেন্দ্র।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩-৯৪ সালে উপকূল রক্ষায় পারকি সৈকতে আর্কিটেকচার পদ্ধতিতে প্রায় ২৩ হাজার ঝাউগাছ রোপণ করে বন বিভাগ। পরবর্তী সময়ে ২০০২ সালে আরও একটি প্রকল্পের আওতায় ঝাউগাছ লাগানো হয়। এসব গাছ বড় হয়ে ওঠার পর সারি সারি ঝাউবন পারকি সৈকতের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিণত হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের ভাঙনসহ নানা কারণে কমতে থাকে ঝাউবনের বিস্তৃতি।

 

চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের আনোয়ারার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি রেঞ্জার ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুনতাসির রহমান বলেন,পারকি সৈকত এলাকা থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে কতসংখ্যক ঝাউগাছ কাটা বা অপসারণ করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব তার কাছে নেই। এ বিষয়ে বিট কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জানানো হবে।

 

তিনি আরও বলেন, সৈকতের পাশের বিশাল খাসজমিতে নতুন করে ঝাউগাছ রোপণের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

 

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বর্ণ হক বলেন, পারকি সৈকত রক্ষায় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পারকি সৈকত থেকে টানেল পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে।

 

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন বলেন, আনোয়ারা পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় একটি উপজেলা। পারকি সৈকত রক্ষায় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের সার্বিক সহযোগিতা পেলে আনোয়ারা দেশের পর্যটনশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

পূর্বকোণ/নুসরাত

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট