কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার করাইয়া ঘোনা এলাকার মগখাল খনন প্রকল্পে কাজ না করে সরকারি বরাদ্দের ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। তবে প্রকল্পের কাজের মান, বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা সরেজমিনে গিয়ে প্রকল্পের নকশা ও কাজের বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ও বুধবার ( ২৮ অক্টোবর) দুপুরে মগখাল পরিদর্শন করেন বিএডিসি কক্সবাজারের সহকারী প্রকৌশলী শওকত আলী সবুজ। এ সময় তিনি খালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন।
জানা গেছে, স্থানীয় সাঈদী আকবর ফয়সাল বিএডিসির মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, সংস্থাটির অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মগখাল খনন প্রকল্পে কাজ না করেই সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিএডিসির উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও রাঙামাটি (সেচ) রিজিওনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাহেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই কর্মকর্তার পক্ষে মঙ্গলবার সরেজমিনে তদন্তে আসেন সহকারী প্রকৌশলী শওকত আলী সবুজ।
সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে শওকত আলী সবুজ সাংবাদিকদের বলেন, সাঈদী আকবর ফয়সালের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্প পরিচালক তাঁকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্পের নকশার তুলনায় খালটি অনেক বড়। খালের দুই পাশ দিয়ে খনন করা হলেও মাঝখানের অংশটি খনন করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, তদন্তের সময় খালে জোয়ারের পানি বেশি থাকায় কাজের প্রকৃত অবস্থা ভালোভাবে দেখা সম্ভব হয়নি। এ কারণে স্থানীয় কৃষকদের জোয়ারের পানি কমে যাওয়ার সময় তাঁকে জানানোর অনুরোধ করেছেন, যাতে পুনরায় খালটি ভালোভাবে পরিদর্শন করা যায়।
প্রকল্পের বরাদ্দ ও কাজের প্রাক্কলন এবং দরপত্রের শিডিউল সম্পর্কে জানতে চাইলে শওকত আলী সবুজ জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। তাই এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর জানা নেই।
এদিকে প্রকল্পের বাজেট ও কাজের শিডিউল সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনেই তদন্তে আসায় তদন্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, খাল খননের নামে দায়সারা কাজ করে সরকারি অর্থ ব্যয়ের উদ্দেশ্যই ব্যাহত করা হয়েছে।
করাইয়া ঘোনা এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় কৃষক আরিফুর রহমান বলেন, বিএডিসির চকরিয়ার উপসহকারী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হকের উপস্থিতিতে ঠিকাদার খালের দুই পাশে দায়সারাভাবে সামান্য খননকাজ করেছেন। তাঁর দাবি, কাজটি ছিল মূলত লোকদেখানো; বাস্তবে খননের কার্যকর কোনো কাজ হয়নি।
স্থানীয় সর্দার আব্দুর রশিদ বলেন, কৃষিকাজে সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার খালটি খননের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রকৃত কাজ না করে শুধু লোকদেখানো কাজের মাধ্যমে বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
অভিযোগকারী সাঈদী আকবর ফয়সাল বলেন, দায়সারাভাবে কাজ দেখিয়ে গত অর্থবছরের জুন মাসে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে বরাদ্দের পুরো টাকা উত্তোলনে বিএডিসির চকরিয়ার উপসহকারী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক সহযোগিতা করেছেন বলে তাঁর অভিযোগ। লিখিত অভিযোগের পর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে নানা গড়িমসি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাঈদী আকবর ফয়সাল আরও বলেন, তদন্তের নামে যেন দায়সারা কার্যক্রম চালিয়ে অভিযোগটি ধামাচাপা দেওয়া না হয়। প্রকল্পের নকশা, বরাদ্দ, কাজের পরিমাণ, বিল-ভাউচার ও বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বিএডিসির চকরিয়ার উপসহকারী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, স্কেভেটর যতদুর নাগাল পেয়েছে ততদুর খনন করা হয়েছে। লোকদেখানো কাজ করে বিল উত্তোলনের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
পূর্বকোণ/নুসরাত/পারভেজ


















