চট্টগ্রামে শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা কম নিয়ে যাওয়ার অজুহাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত গৃহবধূ সিফাতুন নূরের (২২) দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে টানা নয় দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে হেরে যাওয়া এই গৃহবধূর মরদেহ শনিবার বিকেলে চন্দনাইশ পৌরসভার নয়াপাড়া গ্রামে পৌঁছালে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এর আগে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিফাতের গর্ভের দুটি যমজ সন্তান মৃত অবস্থায় প্রসব করানো হয়। পরবর্তীকালে ২৩ অক্টোবর দুপুরে চিকিৎসকধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন । শনিবার বাদ মাগরিব স্থানীয় মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিয়ে পরবর্তী যৌতুক দাবি এবং গত ১২ অক্টোবর বাড়ি থেকে ফেরার সময় নাস্তা কম নেয়ার অজুহাত তুলে সিফাতের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। নিহতের মা জুহিনুর আক্তার অভিযোগ করেন, সিফাতের মাথা, গলা ও হাত-পাসহ শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এই ঘটনায় সিফাতের শাশুড়ি ও ননদদের অভিযুক্ত করে পটিয়া থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। জানাজায় আসা স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ঘটনার তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সিফাতুন ছিলেন সবার ছোট। প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের ইলিয়াছ খাঁ বাড়ির মৃত আব্দুল সবুরের ছেলে দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ


















