চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক যুবককে কুপিয়ে জখম করার মামলার প্রধান আসামিকে চট্টগ্রাম নগর থেকে তুলে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে চরতী ইউনিয়নের সুইপুরা সেন্টার এলাকা থেকে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
গণপিটুনির শিকার হওয়া যুবকের নাম রিয়াজ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ২০ অক্টোবর সাতকানিয়ার চরতী ইউনিয়নের সুইপুরা ব্রিজ এলাকায় সালমান আকবর নামের এক ব্যক্তিকে না পেয়ে দিলমান নামের অপর এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। ওই ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি করা হয় রিয়াজকে। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানার লালদীঘি এলাকা থেকে ১০ থেকে ১৫ জনের একদল লোক রিয়াজকে একটি কালো রঙের নোহা গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
অপহৃত রিয়াজের বোনের স্বামী মোহাম্মদ আলী জানান, দুষ্কৃতকারীরা রিয়াজকে মারধর করতে করতে সাতকানিয়ার দিকে নিয়ে আসে। পথিমধ্যে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে গণপিটুনি দেন। পরে দুর্বৃত্তরা তাকে সুইপুরা সেন্টার এলাকায় আহত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চরতী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল রশিদও সুইপুরা সেন্টার এলাকায় রিয়াজকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম বলেন, দিলমানের ওপর হামলার মামলার প্রধান আসামি রিয়াজকে নগরী থেকে ধরে এনে গণপিটুনি দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। যেহেতু মূল অপহরণ ও আটকের ঘটনাটি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানা এলাকায় ঘটেছে, তাই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা সেখানে নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির বলেন, এক যুবককে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে যায়। পরবর্তীতে জানা যায়, একটি মামলার আসামিকে কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িতে তুলে মারধর করে সাতকানিয়ায় নিয়ে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে সাতকানিয়া থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্বকোণ/রানা/এএইচ


















