চট্টগ্রাম বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

রাউজান ও রাজস্থলীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা সম্পন্ন
রাজস্থলীতে প্রতিমা বিসর্জন

রাউজান ও রাজস্থলীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা সম্পন্ন

রাউজান ও রাজস্থলী সংবাদদাতা

২১ অক্টোবর, ২০২৬ | ১১:১২ অপরাহ্ণ

রাউজানে বিজয়া দশমীতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ২৩৩ মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জ্জন সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার ২১ অক্টোবর বিকেলে রাউজান পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের ঢেউয়াপাড়া অপরাজিতা সেবাশ্রম মাঠে বিজয়া সম্মিলনী ও বিসর্জন উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেন রাউজান পৌরসভার পূজা উদযাপন পরিষদ।

পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সদীপ দে সজীবের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাউজান পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার ভূমি অংছিং মারমা। উপজেলা পূজা ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক প্রণব চৌধুরী মিটুর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল হাসান, বিএনপি নেতা সৈয়দ মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, সাবেক কাউন্সিলর বিএনপি নেতা এস.এম রেজাউল রহিম আজম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ সভাপতি সাবের সুলতান কাজল, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজান সাহিল, পৌরসভা সেচ্ছাসেবী দলের আহবায়ক শাহাদাত মির্জা, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, সাংবাদিক প্রদীপ শীল, পৌর সভা পূজা সম্পাদক দীপ্ত চৌধুরী,বিজয় টিভি ডেপুটি ম্যানেজার অপু দে,রুবেল দে। এছাড়া বিএনপি ও  অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভা শেষে অপরাজিতা সেবাশ্রম সংলগ্ন পুকুরে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জ্জন দেন পূজার্থীরা।

এদিকে উপজেলার দক্ষিণ রাউজানে গঙ্গা মন্দির প্রাঙ্গণে বিজয়া দশমীতে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জ্জন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি লিটন মহাজনসহ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

 

রাজস্থলী উপজেলায় প্রতিমা বিসর্জন 

পার্বত্য পাহাড় আর সবুজ প্রকৃতির বুকজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিয়ে বিদায় নিলেন মা দুর্গা। প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলায় শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের চোখে ছিল বিদায়ের বিষাদ, আর মনে ছিল আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের প্রত্যাশা।

এবার রাজস্থলী উপজেলার তিন টি ইউনিয়নের মধ্যে দুইটি ইউনিয়নে মোট ৫টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। তার মধ্যে একটি পারিবারিক। পূজাকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে ছিল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজা-অর্চনা, আরতি ও ভক্তদের আনাগোনা। কয়েক দিনের উৎসবকে কেন্দ্র করে এ দুর্গম পার্বত্য জনপদে সৃষ্টি হয় আনন্দমুখর পরিবেশ। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি উৎসবটি পাহাড়ি-বাঙ্গালি মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার উপলক্ষ হয়ে ওঠে।

দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে উপজেলার ঘিলাছড়ি ও বাঙ্গালহালিয়ার পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। কয়েক স্তরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আনসার ছিল নিরাপত্তা জোরদারে। উৎসব চলাকালে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূজারীদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালনের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে উৎসবকে ঘিরে জনমনে স্বস্তি ছিল।

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। টানা ছয় দিনের আনন্দ উৎসবের পর বুধবার বিকাল ৫ টার পর বিজয়া দশমীর দিন দেবী বিসর্জনের মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে ওঠে বিদায়ের সুর। ভক্তদের প্রার্থনায় উঠে আসে অশুভ শক্তির বিনাশ, মানুষের কল্যাণ এবং পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা।

শেষদিনে বাঙ্গালহালিয়া কুতুরিয়া পাড়া ও ছাগল খাইয়া থেকে শোভাযাত্রা বের হন মা দুর্গা, কার্তিক, স্বরসতী, লক্ষী ও গনেশের। অপর দিকে রাজস্থলী বাজার হরিমন্দির থেকে শোভযাত্রা বের হয়ে তাইতং পাড়া, নারামুখ পাড়া, খাগড়াছড়ি পাড়া হয়ে বাজার পুকুরে এসে শেষ হয়। এ সময় ভক্তরা নাচ-গান, ঢাকঢোল, উলুধ্বনি ও রং ছিটানোয় মেতে ওঠেন। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা শেষ বিদায় জানাতে বাজার পুকুর ও কর্ণফুলী নদীর ঘাটে ভীড় করেন। পরে দেবীর চরণে সিঁদুর ছুঁইয়ে একে অপরের কপালে ও গালে সিঁদুর মেখে আনন্দ ভাগাভাগি করেন ভক্তরা। নাচ, গান ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে চলে এই আয়োজন। পরে কর্ণফুলী ও রাজস্থলী বাজার পুকুরে দেয়া হয় প্রতিমা বিসর্জন।

রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউছুফ হাসান বলেন, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজস্থলী উপজেলার ৫টি মন্ডপে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। শেষ দিনেও যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন স্তরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তায় ছিল। আগামীতেও এই ধরনের নিরাপত্তা জোরদার থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট