চট্টগ্রাম রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

কক্সবাজারে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, ৬ জন একই পরিবারের 

অনলাইন ডেস্ক

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ | ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।
 
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাশে ইট ও কাঠ দিয়ে তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুন লাগার সময় অনেক পর্যটক ঘুমিয়ে থাকায় তারা কক্ষের ভেতরেই আটকা পড়েন। আগুনে রিসোর্টটির প্রায় পুরো স্থাপনা পুড়ে গেছে।
 
এতে নিহতরা হলেন- ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), নাফিজের বড় বোন ফারিয়া কবির (৩৩), তার ভাগ্নে পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ (৫), ঢাকার সাভারে ‘স্বপ্ন বিলাস স্কুল’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামী, জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম।
 
অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন সাদী (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
 
হতাহতদের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিসোর্টের রান্নাঘরের দিক থেকে বিকট শব্দ হওয়ার পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আগুন থেকে বাঁচতে যারা লাফিয়ে বের হতে পেরেছেন, তাদের অনেকে প্রাণে বেঁচে যান।
 
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘রিসোর্টের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
 
পুলিশ জানায়, টুপটুপ রিসোর্টে মোট কক্ষ ছিল নয়টি। গত শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে চলে যান। বাকি ছয়টি কক্ষে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জন সকালে বিভিন্ন কাজে বাইরে ছিলেন। 
 
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে সকাল ৮টার দিকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
 
এদিকে, রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের অন্যরা পালিয়ে গেলেও ম্যানেজার সুমন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার লাইসেন্স ছিল না। চলতি বছরের জুনে অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল।
 
তিনি বলেন, ‘টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তার লাইসেন্স ছিল না। চলতি বছরের জুন মাসে রিসোর্টটিকে অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। কারণ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স ছিল না। এই রিসোর্টের নিচে রান্নাঘর ছিল। ওপরে ছিল আবাসিক ব্যবস্থা। রান্নাঘর থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
 
পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট