চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া সরফভাটা থেকে চারদিন পূর্বে নিখোঁজ হন গৃহবধূ নুপুর আক্তার। সর্বশেষ অবস্থান গাজীপুরের কালীগঞ্জে শনাক্ত হয়েছে। যা পুরো ঘটনায় নতুন রহস্য ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ সরফভাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী গৃহবধূ নুপুর আক্তার গত সেমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টায়। শ্বশুরবাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। ঘটনার চার দিন পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তাঁর মা ডেইজি আক্তার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর ১৪৯) দায়ের করেন।
জানা যায়, পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নুপুরের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া গ্রামের একটি ক্যাথলিক গির্জার সন্নিকটে। রাঙ্গুনিয়া থেকে প্রায় কয়েকশ’ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্থানে গৃহবধূর উপস্থিতি এবং সেখানে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এবং মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের কয়েকদিন পর পর্যন্ত তাঁর অবস্থানের যে অসংলগ্নতা পাওয়া গেছে, তা ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো পক্ষ জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী নুপুরের পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয়রা তাঁর নিখোঁজের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন।
নুপুরের স্বামী কামাল উদ্দিন মোস্তফা দাবি করেছেন, তাঁদের পারিবারিক পরিবেশে কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব বা নির্যাতনের নজির নেই, যার কারণে কাউকে ঘর ছাড়তে বাধ্য করা যায়।
কামাল উদ্দিনের ভাষ্যমতে, নুপুর দীর্ঘ সময় ধরে ফেসবুক ও টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন, যা থেকেই কোনো অসাধু চক্র তাঁকে প্ররোচিত করে নিয়ে যেতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। তিনি বলেন, বাড়িতে আমার মা ছাড়া আর কেউ থাকেন না, তাই নির্যাতনের প্রশ্নই ওঠে না, বরং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেউ তাকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছে বলেই আমরা মনে করছি।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন গাজীপুরের কালীগঞ্জে নুপুরের অবস্থান নিশ্চিত করে উদ্ধার করতে সেখানে পৌঁছায়, তখন অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে সক্ষম হয়।
এই ঘটনাটি নির্দেশ করে যে, নিখোঁজ গৃহবধূ কোনো সুপরিকল্পিত অপকৌশলের শিকার হতে পারেন, যা তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এবিষয়ে নুপুরের মা ডেইজি আকতার বলেন, স্বামীর সাথে অন্য মেয়ের পরকীয়ার বলী আমার মেয়ে। তারা আমার মেয়েকে কৌশলে ঘর থেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এবিষয়ে তার কাছে প্রমাণ থাকার কথাও বলেন।
বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন জানান, গত ১৫ অক্টোবর নুপুরের সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তখন নুপুর অভিমানজনিত কারণে বাড়ি ছেড়েছেন বলে দাবি করলেও, তাঁর বর্তমান অবস্থান এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন পুলিশের তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে তার মা কন্ঠটি তার মেয়ের নয় বলে দাবি করেন। প্রশাসন এখন এই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে নিছক পারিবারিক কলহ হিসেবে না দেখে এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র বা প্ররোচনাকারীর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। নিখোঁজ গৃহবধূকে উদ্ধার এবং প্ররোচনাকারী চক্রকে শনাক্ত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রযুক্তিগত নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তার অবস্থান জেনে শ্বশুর বাড়ির লোক গাজিপুরে গিয়ে তাকে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরেছে বলে নিশ্চিত করেন। তারা এলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে বলে নিশ্চিত করেন।
তবে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। যাতে নুপুর আক্তারকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং তাঁর নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয়।
পূর্বকোণ/পারভেজ


















