চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে দেরিতে আসা ও চুল না কাটা নিয়ে প্রশ্ন করায় শিক্ষককে কলম দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করার ঘটনার পর অবশেষে শিক্ষকের পা ধরে ক্ষমা চেয়েছে অভিযুক্ত সেই শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) রাউজান সরকারি আরআরএসি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল বিভাগের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইউছুপ পরীক্ষায় দেরিতে উপস্থিত হয়। একই সাথে তার চুল না কাটার কারণ জানতে চান শিক্ষক সুচরিত চৌধুরী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউছুপ তার হাতে থাকা কলম দিয়ে শিক্ষকের মুখের ডান পাশে সরাসরি আঘাত করে। এতে শিক্ষক আহত হন।
ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয় এবং এলাকায় সামাজিক সালিশ ডেকে তাকে তিরস্কার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আহত শিক্ষকের পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করে নবম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমদসহ অন্য শিক্ষকদের কাছেও ক্ষমা চায় সে। ভুক্তভোগী শিক্ষক সুচরিত চৌধুরীও তাকে ক্ষমা করে বুকে টেনে নিয়ে এক অনন্য মানবিকতার নজির স্থাপন করেছেন।
তবে শিক্ষকের ওপর এই হামলায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গত বুধবার ডাবুয়া এলাকার আরবনগরে পাড়াপ্রতিবেশীদের উদ্যোগে একটি সামাজিক সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইউছুপকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমদ জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হামলাকারী শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
বহিষ্কারের পর বৃহস্পতিবার অপরাধবোধ থেকে আহত শিক্ষক সুচরিত চৌধুরীর সামনে উপস্থিত হয়ে তার পা ধরে অনুশোচনা প্রকাশ করে ইউছুপ। এ সময় শিক্ষক সুচরিত চৌধুরী সব অভিমান ভুলে তাকে ক্ষমা করে দেন।
স্থানীয়রা বলেন, অন্যায় করে পার পাওয়া অনুচিত, কিন্তু ভুল অনুধাবন করে ক্ষমা চাওয়ার পর শিক্ষকের এই উদারতা গুরু-শিষ্যের সম্পর্কের এক অনন্য দিক তুলে ধরেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজ সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তারা।
পূর্বকোণ/রানা/এএইচ


















