চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

নৈশপ্রহরী নেই, নেই পুলিশি তদারকি : মিরসরাইয়ে চোরের টার্গেট প্রাথমিক বিদ্যালয়

নৈশপ্রহরী-পুলিশি তদারকি নেই: মিরসরাইয়ে চোরের টার্গেট প্রাথমিক বিদ্যালয়

মিরসরাই সংবাদদাতা

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ৮:৫৭ অপরাহ্ণ

নৈশপ্রহরী থাকা এবং পর্যাপ্ত পুলিশি তদারকির অভাবে চোরের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে মিরসরাইয়ের ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ১৭০ নম্বর মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সর্বশেষ গত ১০ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় সিঁধ কেটে ও তালা ভেঙে বিদ্যালয়টি থেকে মোট ৮টি সিলিং ফ্যান চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে এলাকার শিক্ষার আলো ছড়াতে বিত্তশালীদের নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে ওঠে এই বিদ্যালয়টি। পরবর্তীতে এটি সরকারি করা হলেও যাতায়াত ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং পর্যাপ্ত সুরক্ষার অভাবে বিদ্যালয়টিতে প্রতিনিয়তই চুরির ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো নৈশপ্রহরী, যার সুযোগ নিচ্ছে স্থানীয় সংঘবদ্ধ চোর চক্র।

সর্বশেষ বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে ২টি শ্রেণিকক্ষ থেকে ৪টি সিলিং ফ্যান খুলে নিয়ে যায় চোরেরা। এর আগে গত ৩ অক্টোবর রাতেও একইভাবে তালা ভেঙে আরও ৪টি ফ্যান চুরি করা হয়েছিল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহানা বেগম ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, প্রথমবার চুরির পর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের কেউ পরিদর্শনে পর্যন্ত আসেনি। এই সুযোগেই বুধবার রাতে আবারও ৪টি ফ্যান চুরি হলো। অরক্ষিত একটি প্রতিষ্ঠানে নাইটগার্ড না থাকলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কীভাবে সুরক্ষা নিশ্চিত হবে? বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি, তবে একের পর এক চুরি হলেও প্রশাসন এখনও কাউকে শনাক্ত বা আটক করতে পারেনি।

যোগাযোগ করা হলে মিরসরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোজিনা রহমান বলেন, অফিসার্স ক্লাবের একটি অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে জানা হয়নি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগের বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, বিদ্যালয়ে চুরির বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে গুরুত্বের সাথে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

পূর্বকোণ/রানা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট