চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় শারদীয়া দুর্গাপূজার আগে মধ্যরাতে তিনটি বসড়বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আগুনে পুড়েছে বসতঘর, গবাদিপশু, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার।
রবিবার (১১ অক্টোবর) মধ্যরাতে উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি সর্বস্ব হারিয়ে বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ডাবুয়া ইউয়নিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নারায়ণ দে ও সুমন দে’র বসতঘরটি পাশাপাশি। এর প্রায় ১০০ গজ দূরে সুমন নামে ক্ষতিগ্রস্ত অন্য ব্যক্তির বাড়ি। মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা এই তিনটি বাড়িতে আগুন দিয়ে চলে যায়। তবে সুমনের বাড়ির তেমন ক্ষতি না হলেও অন্য দুজনের বাড়িটি পুড়ে যায়। রক্ষা পায়নি বাড়ি থেকে সামান্য দূরত্বে থাকা গোয়ালঘরও। এতে করে আগুনে পুড়েছে দুইটি গবাদিপশুও।
অগ্নিকাণ্ডের শিকার নারায়ণ দে ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনাটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। কারণ, মূল ঘর থেকে কয়েকশ গজ দূরে এবং ভিন্ন স্থানে থাকা গোয়ালঘর ও ঘরের স্তূপে একসঙ্গে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে সুমন নামের আরেক ব্যক্তির বসতঘরেও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালানো হয়, যা থেকে স্পষ্ট এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের টার্গেট করে ঘটানো একটি নাশকতা।
নারায়ণ দে আরও জানান, পূজার কেনাকাটার কাপড়চোপড়, ঘরের আসবাবপত্র এবং প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ সবকিছু মিলিয়ে তার ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অপর ক্ষতিগ্রস্ত বিজয় চৌধুরীর ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আগুনে দুটি গরু পুড়ে মারা গেছে এবং নগদ ৩০ হাজার টাকাও ভস্মীভূত হয়েছে। আকস্মিক এই সর্বনাশে গায়ের পোশাকটুকু ছাড়া আর কিছুই রক্ষা করতে পারেননি ক্ষতিগ্রস্তরা।
খবর পেয়ে পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই পরিবারে পূজার আনন্দ ম্লান করে দেওয়া এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রাহাত উল ইসলাম বলেন, আমরা এ ঘটনায় দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী ও ঘর তৈরির জন্য ঢেউটিন দেয়া হয়েছে।
পূর্বকোণ/পিআর


















