চট্টগ্রাম শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

বিতর্কিতদের সারের ডিলারশিপ দেয়ায় ইউএনওকে বিএনপি নেতার হুঁশিয়ারি

বিতর্কিতদের সারের ডিলারশিপ দেয়ায় ইউএনওকে বিএনপি নেতার হুঁশিয়ারি

লোহাগাড়া সংবাদদাতা

১০ অক্টোবর, ২০২৬ | ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সারের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দীন চৌধুরী সোহেল। বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে অবিলম্বে বিএনপি নেতাকর্মীদের সারের ডিলারশিপ দেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।
 
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় উপজেলার চুনতি ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রাহক ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সালাউদ্দীন চৌধুরী সোহেল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য।
 
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়ে সোহেল বলেন, “বিগত ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা চরম নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেছেন। কিন্তু এখনও কোন খুঁটির জোরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পান? কার স্বার্থে এবং কোন প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসকের দপ্তরে তাদের নাম পাঠানো হলো, তার স্পষ্ট জবাব ইউএনও ও কৃষি কর্মকর্তাকেই দিতে হবে।”
 
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কলাউজান, বড়হাতিয়া ও চরম্বা এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরিতে বৈষম্য করা হয়েছে। এই কথিত ও পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এড়াতে পারেন না। অবিলম্বে আওয়ামী লীগের ডিলারশিপ বাতিল করে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ডিলার নিয়োগ না দিলে কঠোর কর্মসূচিরও ইঙ্গিত দেন তিনি।
 
এদিকে বিএনপি নেতার অভিযোগ ও কড়া মন্তব্যের জবাবে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজীদ-বিন-আখন্দ জানান, ডিলার নিয়োগে কোনো স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম হয়নি। নীতিমালার আলোকে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করেই যোগ্যদের তালিকা জেলায় পাঠানো হয়েছে। রাজনৈতিক অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “যদি কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থেকে থাকে, তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুতে তা জানানো হয়নি কেন?”
 
উল্লেখ্য, সম্প্রতি লোহাগাড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে সারের ডিলার নিয়োগের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরপরই স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। তালিকার বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দলীয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষের মাঝেও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। 
 
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট