চট্টগ্রাম শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

দেদারসে উত্তোলন, শোভনছড়ি  যেন অবৈধ বালুর আড়ত

দেদারসে উত্তোলন, শোভনছড়ি  যেন অবৈধ বালুর আড়ত

এস এম মোরশেদ মুন্না

১০ অক্টোবর, ২০২৬ | ১২:০৮ অপরাহ্ণ

ফটিকছড়ি উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের শোভনছড়ি যেন পরিণত হয়েছে অবৈধ বালুর আড়তে। খালের পাড়ে বালুর স্তূপ, বালুবোঝাই গাড়ির অবাধ চলাচল এবং খাল-সড়কের ক্রমাগত ক্ষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।
 
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শোভনছড়ি ও ফনিখালের বিভিন্ন স্থান থেকে অনুমোদন ছাড়াই বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছে। এতে পরিবর্তিত হচ্ছে খালের গতিপথ। হুমকির মুখে পড়েছে খালের বাঁধ, গ্রামীণ সড়ক, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি।
 
 
শোভনছড়ি ও ফনিখালের আশপাশে রয়েছে বিস্তীর্ণ বসতি, ফসলি জমি এবং মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক। খালের পাড় ঘেঁষে বালু উত্তোলনের কারণে কোথাও পাড় ভেঙে যাচ্ছে, আবার কোথাও সড়কের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, বালু পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক ও জিপগাড়ির চলাচলে গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে ভাঙন ও খানাখন্দ। এতে কৃষি, যোগাযোগব্যবস্থা ও বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়েছে।
 
 
স্থানীয়দের দাবি, এলাকার তারেক, রুবেল ও বাঁশি গ্যাংসহ একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র এই অবৈধ বালু কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাদের অভিযোগ, যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন সেই দলের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চক্রটি বালু উত্তোলনের ব্যবসা চালিয়ে যায়। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
 
 
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান সড়ক দিয়ে শোভনছড়িতে প্রবেশ করলেই সড়কের দুই পাশে বালুর স্তূপ চোখে পড়ে। এসব বালু ট্রাক ও জিপগাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বালু উত্তোলন বন্ধে দৃশ্যমান কোনো বড় অভিযান বা কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
 
 
স্থানীয় বাসিন্দা আহমদ রহিম বলেন, শোভনছড়িতে বালু উত্তোলনকারীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়া সত্ত্বেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর অভিযান চোখে পড়ছে না। স্থানীয় বাসিন্দা তাহের মুন্সি অভিযোগ করেন, প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় সমঝোতা করেই বালুর ব্যবসা চালানো হচ্ছে। 
 
 
এ বিষয়ে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্লাহ বলেন, ‘সমঝোতা তো দূরের কথা, কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। খুব দ্রুতই শোভনছড়িতে অভিযান চালানো হবে।’
 
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, শোভনছড়ি এলাকায় বালু উত্তোলনের কোনো বৈধ ইজারাদার নেই। খুব দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 
পূর্বকোণ/নুসরাত
 
 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট