চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সংসদ সদস্য ও জামায়ত নেতা শাহজাহান চৌধুরী এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা বেগম স্বপ্নার সামনেই বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
দুপক্ষের হাতাহাতির সময় ভিডিও ধারণ করায় দুই সাংবাদিকের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তাদের হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠেছে। হাতাহাতিতে সাতকানিয়া পৌরসভা বিএনপির সংগঠক মো. দিদারুল হক বাপ্পি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা বেগম স্বপ্না উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। দুপুর ১টার দিকে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বের হওয়ার সময় তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সেখানে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রধান ফটকের সামনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা।
ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় দৈনিক কালবেলার সাতকানিয়া প্রতিনিধি মো. মিনহাজ উদ্দিনের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। পরে ফোনটি ভাঙচুর করে প্রায় ২০ মিনিট পর ফেরত দেওয়া হয়। এরপর বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে গেলে সেখানেও নিজেদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে স্থানীয় সংবাদকর্মী মাকছুদুল ইসলাম চৌধুরীর মোবাইল ফোন নিয়ে তাকেও মারধর করা হয়। পরে ফোনটি ফেরত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান বলেন, জামায়াতের লোকজন উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হামলা চালিয়ে আমাদের এক কর্মীকে আহত করেছে। এ সময় ভিডিও ধারণকালে এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে হেনস্তা করা হয়। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।
সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কামাল উদ্দিন এক বিবৃতিতে বলেন, সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হাতাহাতির ঘটনায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা জড়িত নন। ঘটনাটিকে ‘জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ’ হিসেবে প্রচার করে রাজনৈতিক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধের আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, দু’পক্ষের মধ্যে হট্টগোল হয়েছিল। পুলিশের উপস্থিতি ও নজরদারির ফলে সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এরপরও পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পূর্বকোণ/রানা/এএইচ


















