চট্টগ্রাম সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

চুয়েটে অচলাবস্থা, শিক্ষক দিবসেও ক্লাসে ফিরতে পারেননি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

চুয়েটে অচলাবস্থা, শিক্ষক দিবসেও ক্লাসে ফিরতে পারেননি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

রাউজান সংবাদদাতা

৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ৪:৩৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ১৪তম দিনে গড়িয়েছে। আন্দোলনের কারণে এদিনও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। এর পাশাপাশি সোমবার মানববন্ধন ও র‍্যালি করেছেন তারা।
 
 
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন চুয়েট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির সদস্যরা। সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর ঘুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
 
 
মানববন্ধন শেষে চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে তারা আন্দোলন করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবারের মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।’
 
 
শিক্ষার্থীদের ছাত্রজীবন যাতে কোনোভাবেই বিলম্বিত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তাদের আন্দোলন অত্যন্ত অহিংস বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
 
 
মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো ধরনের ভাঙচুর বা রাস্তা অবরোধের মতো কর্মসূচি আমরা পালন করছি না। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, আমাদের দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হোক।’
 
 
এদিকে সোমবার বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আন্দোলনের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের কারণে শিক্ষক দিবসেও শ্রেণিকক্ষে ফিরতে না পারায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
 
 
শিক্ষার্থীদের মধ্যে যন্ত্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলকারনাইন মিহাদ বলেন, ‘আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এই দিনে যেখানে আমাদের শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, সেখানে আন্দোলনের ১৪তম দিনেও আমাদের অবস্থান কর্মসূচিতে থাকতে হচ্ছে। দাবি পূরণের জন্য আজও আমাদের রাস্তায় থাকতে হচ্ছে।’
 
 
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে একসঙ্গে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। আমরা চাই, অতিদ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক। সে কারণেই আমরা তাঁদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে অবস্থান করছি। আমরা দ্রুত এ সমস্যার একটি সমাধান চাই।’
 
 
চুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত হয় গত ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
 
 
দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে ওই দিন থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
 
 
আন্দোলনের ১৪ দিনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল ও মুখোশ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
 
 
অন্যদিকে একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সোমবার শিক্ষক দিবসেও তাঁরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
 
 
তবে এখন পর্যন্ত উপাচার্য পুনর্বহালের দাবির বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি। ফলে আন্দোলনের ১৪তম দিনেও চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা অব্যাহত আছে।
 
পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট