কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের অতি-গুরুত্বপূর্ণ সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা শতাধিক ক্ষুদ্র ও ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েমের নেতৃত্বে সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাবাপী অভিযানে বুলডোজার দিয়ে ফুটপাতের শতাধিক অস্থায়ী দোকান ও ঝুপড়ি ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সময় একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো রকম আগাম নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই হঠাৎ অভিযান চালুর ফলে তাঁরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন।
আরিফ নামের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, “আইন সবার জন্য সমান বলা হলেও মাঠে তার প্রয়োগ ভিন্ন। ফুটপাত দখল করা ছোট দোকানদারদের ওপর বুলডোজার চললেও পাশে খাস জমি দখল করে রাখা প্রভাবশালীদের স্থাপনায় হাত দেওয়া হয় না”।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ। তিনি বলেন, “আজকের উচ্ছেদকৃত জায়গার পাশেই সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি দখল করে একটি মহল মার্কেট নির্মাণ করেছে। প্রশাসন যখনই উচ্ছেদে আসে, ফুটপাতের ভাসমান দোকানগুলো ভেঙে চলে যায়; কিন্তু পাশের অবৈধ স্থাপনাগুলো রহস্যজনক কারণে বারবারই উচ্ছেদ না করে রেখে দেয়া হয়।”
অভিযান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, এই ধরনের কোনো বিষয় নেই। পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। সৈকত এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা পরিচ্ছন্ন ও দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসন কাউকে ছাড় দেবে না।
তিনি আরো বলেন, কাউকে হঠাৎ উচ্ছেদ করা হয়নি। উচ্ছেদের আগে ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল।
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

















