চট্টগ্রাম রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

চুয়েটে সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বৈঠক

চুয়েটে সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বৈঠক

রাউজান সংবাদদাতা

৪ অক্টোবর, ২০২৬ | ৯:১৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান সংকট ও অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার দ্রুত একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

রবিবার (০৪ অক্টোবর) সকালে উপাচার্য ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। চুয়েট শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ও পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সামিউন বাসির।

তিনি জানান, শনিবার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির একটি যৌথ প্রতিনিধিদল সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনায় অংশ নেন। বৈঠকে চুয়েটের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্নিয়োগের পক্ষে যৌক্তিক কারণ ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্দোলনের বিষয়গুলো আন্তরিকতার সঙ্গে শুনেছেন এবং শিক্ষাঙ্গনে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে বৈঠকের পর আন্দোলনকারীরা এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধান না আসায় ক্যাম্পাসে স্থবিরতা কাটেনি। চুয়েটে ক্লাস, পরীক্ষা ও ল্যাবসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সমাধান না আসা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আজ (রবিবার) ১৩তম দিনের মতো শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউন ও অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের একদফা দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ শুরু হয়। গত ১৩ দিন ধরে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মিছিল, মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল ও দেয়াল লিখনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করে আসছেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও তাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

এরই মধ্যে গত শনিবার নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের একটি বক্তব্যের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আন্দোলনকারীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অচলাবস্থা কাটাতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে চুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলে।

পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট