কক্সবাজারের পেকুয়ায় সরকারি নির্দেশনা সংক্রান্ত এক বৈঠকে অংশ নিতে আসা মাছ ব্যবসায়ীদের অপমান করার অভিযোগ ওঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের এক অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত পিয়ন নিতাই দাশের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তার অপসারণ ও প্রশাসনিক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মাছ ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় ইউএনও রফিকুল ইসলামের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
সাগরে মাছ ধরায় আগামী ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া সরকারি বিধিনিষেধ নিয়ে মতবিনিময়ের জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ব্যবসায়ীদের সেখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
উপস্থিত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বৈঠক চলাকালে অফিস সহকারী নিতাই দাশ কক্ষে প্রবেশ করে বলেন, ‘এখানে দুর্গন্ধ আসছে কেন’, ‘তোমাদের গা দিয়ে গন্ধ আসছে’, ‘এটি এসি রুম, লুঙ্গি পরে এসেছ কেন?’। ইউএনও তাকে থামতে বললেও তিনি কটু মন্তব্য করতেই থাকেন।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মৎস্যজীবী দলের সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমরা মৎস্য কর্মকর্তার ফোন পেয়ে সরকারি নির্দেশনা শুনতে গিয়েছিলাম। ২৪ ঘণ্টা মাছ নিয়ে কাজ করি বলে শরীরে গন্ধ থাকতেই পারে। ডেকে নিয়ে গিয়ে এভাবে অপমান করা হবে—তা আশা করিনি। লুঙ্গি পরে অফিসে যাওয়া অপরাধ হলে আমাদের ডাকা হলো কেন? সরকারি কর্মচারীরা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন পান, তাদের থেকে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।’
মাছ বাজারের ইজারাদার আব্দুল মান্নান বলেন, বৈঠক চলাকালে নিতাই দাশ রুমে ঢুকে এসি, দুর্গন্ধ ও লুঙ্গি নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করেন। ইউএনও সাহেব তাকে চুপ থাকতে বললেও তিনি তা শোনেননি। আমরা চরমভাবে অপমানিত হয়েছি এবং তার অপসারণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
বৈঠক শেষে পেকুয়া বাজার মাছ বিক্রয় ভবনে ব্যবসায়ীরা এক প্রতিবাদ সভা করে অভিযুক্ত পিয়নের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহকারী নিতাই দাশ দাবি করেন, নির্দিষ্ট কোনো ব্যবসায়ীকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়নি; ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় তিনি শুধু গন্ধের কথা বলেছিলেন।
এই বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তেমন বড় কিছু নয়। আমি পিয়নকে থামতে নির্দেশ দিয়েছিলাম।
পূর্বকোণ/রানা

















