চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ইউনিয়ন যুবদল সম্পাদকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে যুবদল সভাপতিকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে একদল দুষ্কৃতিকারী।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ভাটিয়ারী বিজয় স্মরণী কলেজ গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় আহত যুবদল নেতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে এ ঘটনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন দলের নেতাকর্মীরা। এ হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কিন্তু পুলিশ এখনো কোন অভিযোগ পায়নি বলে জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন যুবদলের সম্পাদক মোহাম্মদ রবির অক্সিজেন ও গ্যাস বিক্রির দোকানে বসে কথা বলছিলেন ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম মাহমুদ। এ সময় ১২-১৫ জন যুবক হাতে রড ও লাঠি নিয়ে ওই দোকানে এসে সেলিম মাহমুদকে পিটাতে থাকে। এতে মাথা ফেটে জখম হন তিনি।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, যুবকরা হাতে লাঠি ও রড নিয়ে সেলিম মাহমুদকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। এক পর্যায়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হয়ে পড়লে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ভুক্তভোগী সেলিম মাহমুদ বলেন, নিজেদেরকে দলীয় নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে একদল যুবক ‘সেভেন স্টার’ নামক একটি চাঁদাবাজির প্রতিষ্ঠান খুলে বিগত সরকার পতনের পর নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। তারা স্থানীয় শিল্পকারখানায় গণহারে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও লুটপাট করেছে। একাধিকবার চাঁদাবাজির সন্ত্রাসীর অভিযোগে জেলেও গেছে চক্রের সদস্যরা। এমনকি আদালতে চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করে আগামীতে আর চাঁদাবাজি করবে না মর্মে মুচলেকা দিয়ে জামিনও নেয় তারা। এখন আবার গণহারে চাঁদাবাজিতে নেমেছে। আমি এর প্রতিবাদ করাতে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে এ হামলায় অভিযুক্তদের একজন ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কপিল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ইউনিয়ন যুবদলের নাম ভাঙিয়ে স্থানীয় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করে ২ লাখ টাকা নেয় সেলিম মাহামুদ। তাকে দলের কিছু নেতাকর্মী চাঁদাবাজি বন্ধ করতে বলার পরও তিনি বন্ধ না করায় বিক্ষুব্ধ হয়ে গণধোলাই দিয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে সংশোধন হয়ে যায়।
ভাটিয়ারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম বলেন, আধিপত্য বিস্তারে নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ আছে। অপরাধী যারাই হোক সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ফজলুল করিম চৌধুরী বলেন, আহত সেলিম মাহমুদ দলের ত্যাগী নেতা। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে হামলাকারীদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখনো অভিযোগ থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পূর্বকোণ/ইবনুর
















