চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

মেয়াদ বাড়ে, কাজ শেষ হয় না 

৭২ কোটি টাকার পারকি পর্যটন কমপ্লেক্স আট বছরেও পূর্ণতা পায়নি

সুমন শাহ

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১:৫৯ অপরাহ্ণ

সমুদ্র আছে, আছে বিস্তীর্ণ বালুচর। আছে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখার মনোরম সুযোগ। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে প্রতিদিনই ছুটে আসেন পর্যটক। কিন্তু দীর্ঘ দুই যুগেও পারকি সমুদ্রসৈকতে গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত আবাসিক হোটেল-মোটেল। ফলে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও কাক্সিক্ষত সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়ে গেছে।
এই সংকট কাটাতে প্রায় ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বমানের পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া সেই প্রকল্পের কাজ আট বছরেও পুরোপুরি শেষ হয়নি। দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ, বেড়েছে ব্যয়ও। এখন চলছে শেষ পর্যায়ের কাজ।
আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। এমন দিনে পারকি সমুদ্রসৈকতের সম্ভাবনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই প্রকল্পের ধীরগতিও স্থানীয়দের আলোচনায় এসেছে।
২০১৮ সালে ১৩ দশমিক ৩৬ একর জমিতে ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে পারকি সমুদ্রসৈকত আধুনিকায়নের লক্ষ্যে পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের নভেম্বরে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্পের ২০ শতাংশ কাজও শেষ করতে পারেনি তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। একই সঙ্গে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৭১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এরপরও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়। সেই সময়েও কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের আবাসন ও বিনোদনের কথা মাথায় রেখে কমপ্লেক্সে নির্মাণ করা হচ্ছে নানা ধরনের স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে ৮০০ বর্গফুট আয়তনের ১০টি সিঙ্গেল কটেজ এবং ১ হাজার ৩৫০ বর্গফুটের চারটি ডুপ্লেক্স কটেজ। থাকছে তিনতলা মাল্টিপারপাস ভবন, যেখানে থাকবে অফিস ও রেস্তোরাঁ। এছাড়া নির্মাণ করা হচ্ছে তিনতলা 
 
 
সার্ভিস ব্লক, সাবস্টেশন ভবন, অভ্যন্তরীণ সড়ক, নিরাপত্তাকক্ষ এবং দুটি পিকনিক শেড। শিশুদের জন্য থাকছে খেলাধুলার জায়গা। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে হ্রদও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্প এলাকায় বিভিন্ন অবকাঠামোর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। সীমানাপ্রাচীর, গেট ও পার্কিংসহ বিভিন্ন স্থাপনা দৃশ্যমান। বর্তমানে প্রকল্প এলাকার ভেতরে মাটি ভরাট করে সমতল করার পাশাপাশি চলছে রং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। তবে নির্মাণকাজের মান নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
পারকি বিচ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণাধীন পর্যটন কমপ্লেক্সের উত্তর পাশের সীমানাপ্রাচীর হেলে পড়ে। পরে ২০২৪ সালের আগস্টে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় দক্ষিণ পাশের সীমানাপ্রাচীরও হেলে পড়ে। প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে লবণাক্ত মাটি দিয়ে প্রকল্প এলাকায় ভরাটের কাজ চলছে।
প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার অসীম শীল বলেন, গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। তবে বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি। ঠিকাদাররা সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারায় বেশি সময় লেগেছে। প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, আনোয়ারা পর্যটনের সম্ভাবনাময় একটি উপজেলা। এখানে পাহাড়, সমুদ্রসহ পর্যটনের নানা উপাদান রয়েছে। পারকিতে বিশ্বমানের পর্যটন কমপ্লেক্সের কাজও চলমান রয়েছে। সরকারের সার্বিক সহযোগিতা পেলে আনোয়ারা দেশের পর্যটন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
 
পূর্বকোণ/পল্লবী

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট