জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট ও প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরায় প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে উখিয়ার ক্যাম্পে মানববন্ধন করেছেন রোহিঙ্গারা। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া পাঁচ দফা প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে তারা বলেছেন, দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুত জীবনের অবসান ঘটিয়ে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ ভূমি মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান তারা। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গার কার্যালয় প্রাঙ্গণে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরার উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, প্রায় এক দশক ধরে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে জীবন কাটাচ্ছেন রোহিঙ্গারা। এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে হলে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
তাদের মতে, শুধু মানবিক সহায়তা দিয়ে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মিয়ানমারে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে রোহিঙ্গারা নিজেদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পর স্বেচ্ছায় নিজ ভূমিতে ফিরতে পারেন। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ, আঞ্চলিক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গার প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলের সদস্য মোহাম্মদ ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংহতি ও মানবিক সহায়তা পেয়ে আসছেন। এখন সেই সংহতিকে কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে। রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গারাও নিজেদের দীর্ঘ অপেক্ষার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, বছরের পর বছর ক্যাম্পে অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের। এ জন্য শুধু আশ্বাস নয়, প্রত্যাবাসন শুরু করার মতো কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চান তারা।
মানববন্ধনে মাস্টার জাহাঙ্গীর আলম, মৌলভী ছৈয়দ উল্লাহ, মাস্টার কিন মং রফিক, মাস্টার শোয়াইব ও সাজেদা বেগমসহ ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গার নেতারা বক্তব্য দেন।
পূর্বকোণ/রানা/এএইচ


















